diamonds

ওয়েবডেস্ক: মহারানি ভিক্টোরিয়ার সময় থেকেই পশ্চিমি দুনিয়ায় হিরে পেয়েছিল এক আলাদা অভিজ্ঞান। শোকের পাথর হিসাবে পরিচিতি ছিল তখন এই বহুমূল্য রত্নের। তার পর পৃথিবীর অনেক নদী দিয়েই বয়ে গেল বিস্তর জল। সঙ্গে চলল জল্পনা-কল্পনাও- কী ভাবে শোককে অঙ্গীভূত করেই হিরে হয়ে উঠতে পারে অমরত্বের মাধ্যম। পরিণামে বিজ্ঞান দেখাল তার কৃতিত্ব। সম্ভব হল মানুষের চুল এবং চিতাভস্ম থেকে কৃত্রিম উপায়ে গবেষণাগারে হিরে তৈরি করা!

শুনতে গল্পের মতো হলেও ব্যাপারটা কিন্তু অলৌকিক কিছু নয়। সেই হিসাবেই নয় অবাস্তবও। আসলে হিরের মূল উপাদানই তো হল কার্বন। যা বহুল পরিমাণে মজুত থাকে মানবদেহের চুলে। আবার মৃত্যুর পর দাহক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবশিষ্ট থাকে যে কয়েক মুঠো ছাই, সে-ও তো কার্বনের সমাহার ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই জায়গা থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু। হিসাব বলছে, চুল থেকে হিরে তৈরি করতে হলে .৫ থেকে ২ গ্রাম পর্যন্ত চুল লাগে। অন্য দিকে, চিতাভস্ম থেকে হিরে তৈরি করতে হলে ছাই লাগে ১০০ গ্রাম!

বর্তমানে শিকাগোয় প্রতিষ্ঠিত সংস্থা লাইফজেম, ব্রিটেনের ফিনিক্স ডায়মন্ড কোম্পানি- এই ব্যাপারে অগ্রণী। তবে শুরুটা হয়েছিল এক সুইজারল্যান্ডের সংস্থার হাতে। তার নাম ছিল রিমেমব্র্যান্স ডায়মন্ড। সবকটি নাম থেকেই স্পষ্ট, মৃত্যুর পরে হিরে হয়ে পরিবারেই থেকে যাওয়া এবং এই ভাবে মৃত্যু পরবর্তী অমরত্ব লাভ- এই বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকেই এ জাতীয় ব্যবসার উদ্যোগ। ব্যবসায়িক স্বার্থটা এ ক্ষেত্রে একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়ও! কেন না, এ ধরনের একেকটা হিরে অন্তত লক্ষ ডলারের কমে ঘরে আনা যায় না।

আরও পড়ুন: মৃত্যু নিয়ে এই তথ্যগুলি জানলে ভয়ে শিউরে উঠবেন আপনি!

তবে সেটুকু বাদ দিলেও শোকমোচনের দিকটাও অস্বীকার করা যায় না। প্রিয়জনকে হারানোর শোক পৃথিবীর সব প্রান্তেই সমান কষ্টবহ। সেই জায়গা থেকে নিঃসন্দেহেই মানুষকে সান্ত্বনা দেয় প্রিয়জনের চিতাভস্ম থেকে তৈরি এ জাতীয় কৃত্রিম হিরে। আবার যাঁরা মৃত্যুর পর দেহদাহর প্রথায় বিশ্বাসী নন, তাঁদের জন্যও রয়েছে সান্ত্বনার অবকাশ। সে ক্ষেত্রে মৃত পরিজনের চুল থেকে তৈরি হতে পারে এমন রত্ন! এ ছাড়াও রয়েছে আরেকটি দিকও! এ ভাবে যে হিরে তৈরি হয়, তা অন্য এক দিক থেকেও অনন্য। কেন না, একজনের চুল বা চিতাভস্ম থেকে তৈরি হিরে অন্যটির সঙ্গে মেলে না। ফলে, ব্যক্তিগত দিকটাও অক্ষুণ্ণ থাকছে পুরোমাত্রায়!

সত্যি কথা বলতে কী, এ ভাবে তৈরি হওয়া কৃত্রিম হিরে বেশ অনেক দিন ধরেই স্থান করে নিয়েছে বিশ্ববাজারের জনপ্রিয়তায়। শুধু ফ্যাশন তো আর নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি করে আবেগ কাজ করছে এহেন রত্নধারণের কারণ হিসাবে। এমনকী, যাঁদের চুল বা চিতাভস্ম দিয়ে হিরে তৈরি হয়েছে, সেই তালিকায় নাম উঠেছে বিশ্বব্যাপী প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বদেরও।

১৯৮৪ সালে যেমন পেপসির একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং করতে গিয়ে মাইকেল জ্যাকসনের চুল পুড়ে যায়। তাঁর সেই পোড়া চুল থেকে তৈরি করা হয় ১০টি হিরে, যা একেকটা ২ লক্ষ ডলারে বিক্রি করা হয়েছিল। তৈরি করেছিল শিকাগোর লাইফজেম সংস্থা। ২০০৭ সালে তারা বিঠোভেনের চুল থেকে তৈরি ৩টি হিরে বাজারে এনেও চমকে দেয় সকলকে।

এত কিছু তথ্যের পর জানার জন্য বাকি থাকে কেবল একটাই প্রশ্ন- এই হিরেগুলো কি আসল হিরের মতোই সমান দামি? বাজার সমীক্ষা বলছে, একেবারেই তাই! ঔজ্জ্বল্যে, ক্যারাটের মাপের বিচারে চুল বা চিতাভস্ম থেকে তৈরি হিরে কোনো অংশেই ন্যূন নয়। আর যদি আবেগের দিক থেকে এর মূল্য বিচার করতে হয়?

সে ক্ষেত্রে বলতেই হয়, এই হিরে শুধু চিরদিনেরই নয়, তা অমূল্য-ও!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here