শাল পাতা শিল্প থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লিতে ধরনা জঙ্গলমহলের শ্রমিকদের

0
613
sal tree leaf
mrinal mahat
মৃণাল মাহাত

শাল পাতা কেন্দ্রিক শিল্প বাঁচাতে এবার উদ্যোগী হল জঙ্গলমহলের মানুষ। ৫ এপ্রিল এ জন্য দিল্লি যাত্রা করেছেন সারাভারত শালপাতা শিল্পশ্রমিক ফেডারেশন। সংগঠনের নেতা সতীশ সিং জানান, দিল্লিতে তাঁরা যন্তরমন্তরে একটি ধরনা কর্মসূচি পালন করবেন। মূলত শাল পাতা শিল্পের উপরে ১৪শতাংশ জিএসটি চালু করার প্রতিবাদে এই ধরনা কর্মসূচি। ধর্নার মাধ্যমে শাল পাতা শিল্পের উপর থেকে জিএসটি তুলে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে সংগঠনের নেতারা জানান।

জঙ্গলমহলের সবচেয়ে জনপ্রিয় কুটিরশিল্প হল শাল পাতার থালাবাটি তৈরি। এই শিল্পের জন্য কোনও রকম মূলধন না লাগায় আদিবাসী প্রান্তিক শ্রেণীর বহু মহিলাই এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। বাজারজাতকরণ, সেলাই ইত্যাদির প্রয়োজনেও হাজার হাজার পুরুষ রুজিরুটির প্রয়োজনে এই শিল্পকে বেছে নিয়েছেন।কিন্তু থার্মোকল আসার পর থেকে শাল পাতার থালা-বাটির চাহিদা তলানিতে এসে পৌঁছেছে। মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ের মতো তারপর এসে পড়েছে জিএসটির ধাক্কা। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

সারাভারত শিল্প শিল্পশ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সতীশ সিং জানান, “আমাদের প্রথম দাবি, শাল পাতা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে শ্রমিকের মর্যাদা দিতে হবে। দিতে হবে পরিচয়পত্র। শ্রমিকের পরিচিতি না থাকার জন্য নানারকম সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শ্রমিকরা। দ্বিতীয় দাবি, থার্মোকলের পরিবর্তে সরকারি উদ্যোগে শাল পাতার প্রচার-প্রসার ঘটানো। তৃতীয় দাবি, শালপাতার শিল্পকে জিএসটির আওতার বাইরে রাখা।”

সতীশবাবু জানান, স্বাধীনতার পর ছোট দেশীয় রাজ্যগুলি যখন সংযুক্ত হচ্ছিল ভারতের সঙ্গে, তখন ময়ূরভঞ্জের তৎকালীন রাজা প্রতাপ সিং ভাদে ও ভারত সরকারের সঙ্গে ১৯৪৯ সালে যে চুক্তি হয়, সেখানে শালপাতার উপর কোনও দিন কর না বসানোর কথা বলা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার জিএসটি আরোপ করে সেই চুক্তির খেলাপ করেছে সরকার।

পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তিশগড়, ওড়িশার শালজঙ্গল অধ্যুষিত এলাকার মানুষও দিল্লির ধরনা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এই উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুর স্টেশন থেকে একটি বিশেষ ট্রেন ছেড়েছে।নাম দেওয়া হয়েছে ‘শালপাতা শ্রমিক এক্সপ্রেস’।

সতীশবাবু জানান, পাঁচ রাজ্যের ১৪ জন সাংসদকে চিঠি দেওয়া হয়েছে তাঁদের কর্মসূচিতে সহযোগিতা করার জন্য। চিঠি দেওয়া হয়েছে ঝাড়গ্রামের সাংসদ উমা সোরেন, পুরুলিয়ার মৃগাঙ্ক মাহাত, বালাসোরের রবীন্দ্রকুমার জেনা, জামশেদপুরের বিদ্যুৎবরণ মাহাতকে। এই অসংগঠিত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে। থার্মোকলের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব শাল পাতার থালাবাটি যাতে ব্যাবহৃত হয়, তার জন্য পরিবেশপ্রেমীদেরও প্রচার অভিযানে শামিল হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here