saibal-biswasশৈবাল বিশ্বাস :

বিধাননগর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি বহুতল বাড়ি নির্মাণের জন্য‌ বহু প্রোমোটারের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের করল পুরসভা। মেয়র সব্য‌সাচী দত্তর নির্দেশেই এই ব্য‌বস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের মেয়র জানিয়েছেন, ভেড়ি এলাকা বা সংলগ্ন সরু রাস্তার ধারে ছ’ তলা, সাত তলা বাড়ি করা হয়েছে। এর ফলে বিল্ডিং ল বাতিল কাগজের টুকরোর মতো অবহেলিত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ ধরনের বাড়ি পরিবেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণে কড়া ব্য‌বস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ৩৩টি এই ধরনের বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করে প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য‌, প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে ব্য‌বস্থা নেওয়ার আসল কারণ অন্য‌। সম্প্রতি আয়কর দফতর নোট বাতিলে সিন্ডিকেট ও প্রোমোটারদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বড়োসড়ো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে গোটা বিষয়টি নিয়ে মামলা হতে পারে। তাতে পুরসভার বহু মাতব্বর ফেঁসে যেতে পারেন। তাই আগে থেকেই প্রোমোটার ও সিন্ডিকেটচক্র থেকে নিজেদের দূরত্ব তৈরি করতে ব্য‌স্ত হয়ে পড়েছে পুরসভার কেষ্টবিষ্টুরা। সেই কারণে শুধু বিধাননগরই নয়, রাজারহাট এলাকার কয়েক জন প্রোমোটারের বিরুদ্ধেও তাঁরা ব্য‌বস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন। অন্তত মেয়রের কথা থেকে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।

এফআইআর করার আগে সুকান্তনগর, মিলননগর, নবপল্লী প্রভৃতি এলাকার বেশ কিছু বাড়ির প্রোমোটারকে আইনি নোটিশ ধরিয়ে এক সপ্তাহের মধ্য‌ে পুরসভায় দেখা করতে বলা হয়। তারা এসেছিল বটে, কিন্তু কী ভাবে সাত-আট ফুটের সরু রাস্তার ওপর ছ’ তলা বাড়ি তৈরি হল, তার সাপেক্ষে কোনো কাগজই দেখাতে পারেনি। কেউ কেউ আবার জাল অনুমতিপত্র দেখিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছে। এই সব বিবেচনা করেই এফআইআর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে পুরসভা জানিয়েছে।

স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব অবশ্য‌ এই ধরনের বেআইনি নির্মাণের কোনো দায় নিতে রাজি নন। তাঁদের বক্তব্য‌, অধিকাংশ বাড়ি তৈরি হয়েছে বাম আমলে। তারাই জবাব দিক। কিন্তু আসল সত্য‌ হল, সেই সময় রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার চেয়ারম্য‌ান তাপস চট্টোপাধ্য‌ায়-সহ বহু তাবড় সিপিএম নেতা এখন তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। এমনকি দু-একজন কাউন্সিলারও বেমালুম জার্সি বদল করেছেন। তা হলে বর্তমান শাসকরা দায় এড়িয়ে যান কী করে? দ্বিতীয়ত, দ্বিতীয় বারের জন্য‌ বিধাননগর তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে এসেছে। প্রথম বোর্ড এই বেআইনি নির্মাণের ব্য‌াপারে চোখে ঠুলি দিয়ে বসেছিল কেন? বলা বাহুল্য‌, এই সব প্রশ্নের জবাব বর্তমান বোর্ডের কাছে নেই। তাদের এখন একটাই লক্ষ্য‌, কত দ্রুত সিন্ডিকেটের পূতিগন্ধময় জামাটি গা থেকে ছেড়ে ফেলা যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here