খবর অনলাইন : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই উড়ালপুল তৈরির কাজ দেখতে এসেছিলেন গত নভেম্বরে, জগদ্ধাত্রী পুজোর সময়। বলে গিয়েছিলেন বিধানসভা ভোটের আগেই শেষ করতে হবে এই কাজ। তখনই উড়ালপুল নির্মাণের সর্বশেষ সময়সীমা নতুন করে ধার্য হয় মার্চ ২০১৬। উদয়াস্ত কাজ চলতে থাকে জোরকদমে। কিন্তু যখন বোঝা যায়, এই সময়সীমাও রাখা যাবে না, তখন নতুন করে সময়সীমা ধার্য হয় সেপ্টেম্বর ২০১৬। এই নিয়ে ন’ ন’ বার, বদল হল সময়সীমা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ভেঙে পড়ল উড়ালপুলের সেই অংশ, যার নির্মাণকাজ চলেছিল মঙ্গলবার সারা রাত, বুধবার সকাল পর্যন্ত।

IMG_8846
উদ্ধারকাজে ব্যস্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেনাও

নির্মীয়মাণ উড়ালপুল সংক্রান্ত কিছু তথ্যের দিকে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক —

  • বড়বাজার-পোস্তা এলাকার ট্র্যাফিক জ্যাম কাটাতে এবং উত্তর কলকাতার দিক থেকে হাওড়ামুখী যানবাহনের চলাচল দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করতে ২০০৭ সালে তদানীন্তন বামফ্রন্ট সরকার কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রিটে উড়ালপুল তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। এর এক মুখ শেষ হবে গিরিশ পার্কের কাছে, অন্য মুখ হাওড়া সেতুর কাছে।
  • জেএনএনইউআরএম (জওহরলাল নেহরু ন্যাশনাল আরবান রিনিউয়াল মিশন) প্রকল্পের আওতায় এই উড়ালপুল নির্মাণের খরচ ধরা হয় ১৬৪ কোটি টাকা।
  • ২০০৭-২০০৮ সালে দরপত্রের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজের বরাত পায় হায়দরাবাদের আইভিআরসিএল। এই কোম্পানিই হায়দরাবাদের খুব নামকরা ডেভেলপার। ২০০২ সালে ন্যাশনাল গেমসের জন্য ইন্টিগ্রেটেড গেমস্‌ ভিলেজ এরাই বানিয়েছিল।
  • কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালে। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে কোম্পানিটি দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়লে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
  • ঋণের পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে টাকার ব্যবস্থা করে কোম্পানি আবার কাজ শুরু করে। উড়ালপুল নির্মাণের চূড়ান্ত সময়সীমা ধরা হয় আগস্ট ২০১১।
  • ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজে খারাপ মাল ব্যবহারের অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ জল নিগম আইভিআরসিএল-কে কালো তালিকাভুক্ত করে।
  • শ্রমিক আইন না মানায় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার এই কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য হায়দরাবাদ পুরসভাকে সুপারিশ করে।
  • ২০১৩ সালে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড খারাপ কাজ করা ও সময়ে কাজ শেষ করতে না পারার কারণে তিনটি প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেয় আইভিআরসিএল-কে।
  • ২.২ কিমি দীর্ঘ এই উড়ালপুল নির্মাণে গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত ন’ বার সময়সীমা ছুঁতে পারেনি নির্মাণ সংস্থা।
  • নানা কারণে প্রকল্পটি বিলম্বিত হয়। এর মধ্যে উড়ালপুলের নকশা বদল অন্যতম কারণ। বেশ কয়েক বার নকশা বদল করতে হয়।
  • উড়ালপুলটি কিছু বসতবাড়ির গা ঘেঁষে তৈরি হচ্ছে দেখে ওই সব বাড়িমালিকরা নির্মাণকাজে স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে মামলা করেন।
  • জমি সংক্রান্ত দু’টি ঝামেলায় প্রকল্পের কাজ আরও বিলম্বিত হয় – একটি হাওড়া সেতুর প্রান্তে ও আরেকটি নিমতলা ঘাট স্ট্রিটে।
  • গিরিশ পার্কমুখী র‍্যাম্পের জন্য কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক টুকরো জমি পাওয়ার ব্যাপারটা বেশ কিছু দিন ঝুলে থাকে।

হায়দরাবাদের বানজারা হিলসে আইভিআরসিএল-এর সদর দফতর। এদের ঘাড়ে এখন ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ এবং ২০০০ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা। প্রশ্ন হল, এই দুর্ঘটনার পর আইভিআরসিএল আর কি এই উড়ালপুল নির্মাণের দায়িত্বে থাকবে ? পশ্চিমবঙ্গের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরফাদ হাকিম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইভিআরসিএল-কে দিয়ে কাজ করানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তা হলে কী হবে ?  কবে শেষ হবে এই ‘মারণ’ উড়ালপুলের কাজ ?

ছবি: স্মিতা দাস

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here