জলপাইগুড়ি: একই সঙ্গে অমানবিকতা ও মানবিকতার ছবি রেখে গেল দু’টি ঘটনা।

স্বপ্নেও বোধহয় ভাবতে পারনেনি। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুক্রবারের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে শিউরে উঠছিলেন ৭৫ বছরের রংবালা দাস, যিনি জামাইয়ের হাতে প্রহৃত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বিবাহিত বড় মেয়ে বাঁচাতে নয়, বরং তাঁকে চুলের মুঠি ধরে মেরে পতিদেবতাকেই সাহায্য করে স্ত্রীর ‘গৌরব’ বজায় রেখেছেন।

৭৫ বছরের রংবালা দাস। জলপাইগুড়ি শহরের পিলখানায় বাড়ি। কাছেই বড় মেয়ে-জামাইয়ের বাড়ি। বৃদ্ধার বড়ো ছেলে ভজন সরকারের অভিযোগ, এর আগেই তাঁর দিদি এবং ভগ্নীপতি হরেরাম মৈত্র প্রতারণা করে লক্ষাধিক টাকা হাতি নিয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। শুক্রবার সকালে বৃদ্ধা ২ হাজার টাকা ফেরত চাইতে গেলে অভিযুক্ত জামাই তাঁকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করেন। গায়ে ঢেলে দেওয়া হয় গরম জল। বৃদ্ধার মেয়েও এই কাজে সাহায্য করেন বলে অভিযোগ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বৃদ্ধার মাথায় তিনটি সেলাই পড়েছে। শনিবার অভিযুক্ত দিদি-জামাইবাবুর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বৃদ্ধার ছেলে ভজন সরকার। এ দিকে পালটা মারধরের অভিযোগ তুলে বৃদ্ধার দুই ছেলের নামে পালটা অভিযোগ দায়ের করেছেন হরেরাম মৈত্র। তবে প্রতিবেশীদের রোষের হাত থেকে বাঁচতে সপরিবার বাড়ি ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন গুণধর জামাই।

jalpa-1এ দিকে শুক্রবার রাতে জলপাইগুড়ি শহরের বেগুনটারি মোড়ে এক কিশোরীকে উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে দেখেন টোটোচালক শংকর সাহানি। কিশোরীকে অনুসরণ করছিল চার যুবক। বিপদের গন্ধ পেয়ে আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করেন শংকর। 

এর পরে আরো চমকপ্রদ ঘটনা শোনা যায় কিশোরীর মুখ থেকে। অভাবের কারণে মা-কে ছেড়ে শহরের একটি বেসরকারি হোমে থাকত সে। সেখানেই অন্য আবাসিকদের ‘অত্যাচার’-এর শিকার হয় বছর চোদ্দোর ওই কিশোরী। মঙ্গলবার ফের তাদের হাতে মার খেয়ে মশা মারার কীটনাশক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। হোম কর্তৃপক্ষ তাকে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। অভিযোগ, সেখানেও আয়াদের হাতে লাঞ্ছিত হয় সে। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে হোমে যাওয়ার রাস্তা খুঁজে না পেয়ে উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে থাকে সে। তাঁর চোখে না পড়লে ওই কিশোরীর কী অবস্থা হত ভাবলেই শিউরে উঠছেন শংকরবাবু।

গোটা ঘটনায় ওই বেসরকারি হোম ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। কী কারণে সে কীটনাশক খেল, কী ভাবে নার্স, নিরাপত্তারক্ষীদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেল তা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে হোম ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে। শনিবার কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেন জেলা শিশু সুরক্ষা সমিতির চেয়ারপার্সন বেবি উপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, মেয়েটির বয়ান অনু্যায়ী কারও গাফিলতি প্রমাণ হলে তাঁরা ব্যাবস্থা নেবেন। আপাতত কিশোরীকে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here