কলকাতা : র‍্যাগিং একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে উঠেছে। শুধু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, ইদানীং স্কুলেও র‍্যাগিং-এর প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। তাই র‍্যাগিং রুখতে স্কুল স্তরেও নজর দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক।

মন্ত্রকের কঠোর নির্দেশ মেনে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে র‍্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি আগেই গড়া হয়েছিল। এ বার স্কুলেও এ ধরনের কমিটি গড়ার বার্তা দিয়েছে মন্ত্রক।  আর মন্ত্রকের সেই নির্দেশ অনুযায়ী ইংরাজি মাধ্যম স্কুলশিক্ষা বোর্ড আইসিএসই-র অধীনস্থ স্কুলগুলোয় র‍্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিতে রাখা হচ্ছে স্কুলের অধ্যক্ষ,  অভিভাবক,  শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের  প্রতিনিধি — এমনই নির্দেশ দিয়েছে আইসিএসই। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ আইসিএসই-র অধীনস্থ সব স্কুলেই পাঠানো হয়েছে।  
এই নির্দেশিকায় বিভিন্ন ধাপে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। বুলিং বা র‍্যাগিং-এ দোষী সাব্যস্ত হলে চরম পদক্ষেপ হিসাবে দোষীকে বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। চরম অভদ্র আচরণ, দাদাগিরি, অশোভনীয় কাজ কিংবা ক্লাসের অন্য পড়ুয়াদের ওপর দৈহিক নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ কোনো পড়ুয়ার নামে এলে তাকে প্রথমে মৌখিক বা লিখিত ভাবে সর্তক করা হবে। এর পর ক্লাসে যোগ দেওয়া থেকে বা স্কুল থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাসপেন্ডও করা হতে পারে বা পরীক্ষার ফলও বাতিল করা হতে পারে।  অপরাধ গুরুতর হলে জরিমানাও করা হতে পারে।  প্রয়োজন পড়লে ছাত্রছাত্রীদের ট্রান্সফার করা হতে পারে।  চলতি সপ্তাহেই  ‘প্রিভেনশন অফ বুলিং অ্যান্ড র‍্যাগিং ইন স্কুল’ শীর্ষক ওই সার্কুলার পোর্টালে উল্লেখ করেছে বোর্ড।
আইসিএসই-র এগজিকিউটিভ কমিটি থেকে জানানো হয়েছে,  মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে।  
অনেক সময়ে দেখা যায়, নিচু ক্লাসে যারা ছোটোখাটো চেহারার, তাদের উপর বেশি র‍্যাগিং হয়।   এ ধরনের নানা অভিযোগ জমা পড়ে।  স্কুলে যাতে এ ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, তার জন্যই এই  নির্দেশিকা। পশ্চিমবঙ্গে ইংরাজি মাধ্যমের এই সেকেন্ডারি এগজামিনেশন বোর্ডের অধীনে ৩৮০টি স্কুলে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here