পুনে: চন্দ্রবিন্দুর গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলতে হয় ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’। চার উইকেটে ৬৩, জিততে বাকি ২৮৮।  ক্রিজে তখন অধিনায়কের সঙ্গে রয়েছেন আনকোরা কেদার যাদব। কিন্তু তাঁরা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন। দুরন্ত একটা পার্টনারশিপে ঘুরিয়ে দিলেন ম্যাচের মোড়। প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজ শুরু করল ভারত। শুরু হল অধিনায়ক বিরাটের জয়যাত্রা।  

২০১৫ বিশ্বকাপের পর মর্গ্যানের নেতৃত্বে এক দিনের দল হিসেবে নিজেদের নতুন করে তুলে ধরেছে ইংল্যান্ড। সেই ‘পাল্টে’ যাওয়া ইংল্যান্ডের ব্যাটিং তাণ্ডবের স্বাদ পায় ভারতীয় বোলাররা। শুরুতে আলেক্স হেলসকে হারালেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং থেকে পিছপা হয়নি ইংল্যান্ড। সৌজন্যে জেসন রয়। একদিকে রয় যখন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং উপহার দিচ্ছেন তখন উল্টোদিকে সাবলীল ভাবে নিজের ইনিংস টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন রুট। ৭৩ রানে রয় ফিরলেও রানের গতিতে ব্রেক লাগায়নি ব্রিটিশরা। প্রথমে মর্গ্যান আর পড়ে বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে বড়ো রানের দিকে এগিয়ে যান রুট। মর্গ্যান ফেরেন ২৮ রানে, বাটলারের সংগ্রহ ৩১। রুট করেন ৭৮। স্লগ ওভারে রীতিমত বিধ্বংসী আকার নেয় ব্রিটিশ ব্যাটিং। ৪০ বলে ৬২ করেন বেন স্টোক্স। মঈন আলির সংগ্রহ ১৭ বলে ২৮। সাত উইকেটে সাড়ে তিনশো তুলে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষ হয় ইংল্যান্ডের।

ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। দ্রুত ফেরেন ধাওয়ান আর কেএল রাহুল। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে পুরনো দিনের ঝলক দেখালেও বড়ো রান করতে ব্যর্থ যুবরাজও। চাপহীন খেলার ইঙ্গিত দিলেও অযথা স্টেপ আউট করে চালাতে গিয়ে ফিরে যান ধোনি। এক দিক ধরে রেখেছিলেন অধিনায়ক কোহলি। ছয় নম্বরে নামা কেদার যাদবকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যান ভারতের স্কোর। কোহলি তো নিজের ছন্দে ছিলেনই, কিন্তু নিজের ঘরের মাঠে যে ভাবে ইংরেজ শাসন করছিলেন কেদার যাদব, তা এক কথায় অনবদ্য। জুটির দাপটে ক্রমশ ঘাম ছুটছিল বিপক্ষ শিবিরে।  

৯৩ বলে শতরান পূরণ করেন বিরাট। এক দিনের ক্রিকেটে এটি তাঁর ২৭তম শতরান। কিছুক্ষণ পর শতরানের বাধা টপকান কেদারও। পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়ে অবলীলায় ইংল্যান্ডের বোলারদের পেটাচ্ছিলেন বিরাট। কিন্তু তাল কাটল ৩৭তম ওভারে। স্টোক্সের বলে ফের একটা ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিস টাইমিং হয় তাঁর। ১০৫ বলে ১২২ করে ফেরেন বিরাট। ভারতের স্কোর তখন পাঁচ উইকেটে ২৬৩। পায়ের পেশিতে টান পড়েছিল, তাও দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করছিলেন কেদার। কিন্তু ভারতের স্কোর যখন ২৯১, প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ৭৬ বলে তাঁর সংগ্রহ ১২০। তখনও জয়ের সম্ভাবনা ছিল ভারতের। হার্দিক পাণ্ড আর জাদেজা সাবলীল ভাবে ভারতের স্কোরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু জাদেজার ভুল শটের মাসুল দিতে হয় ভারতকে।  তবে জাদেজা আউট হলেও অশ্বিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতের হয়ে কাঙ্ক্ষিত জয়টি এনে দেন হার্দিক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here