ঠাকুরদা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, তার কলকাতার বাড়িতে দু’সপ্তাহ থেকেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। বাবা ভারতীয়, মা জাপানি। জন্ম টোকিওয়। সে সব পুরনো কথা। নতুন কথাটা হল প্রিয়াঙ্কা ওশিকাওয়ার এ বছরের ‘মিস জাপান’। নতুন বলে নতুন। পদে পদে প্রমাণ করতে হয়েছে তার জাপানি-য়ানা। অতীতের লড়াই তাকে শিখিয়েছে অনেক কিছু। এ এফ পি কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, তাঁর ছোঁয়াকে অশুভ, বিষাক্ত বলে মানা হতো একটা সময়। এই অপমানই বাড়িয়ে দিয়েছিল প্রিয়াঙ্কার জেদ। বছরের শেষে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতাতেও জাপানের প্রতিনিধিত্ব করবে সে।

তবে প্রিয়াঙ্কার জমিটা এক বছর আগে তৈরি করে দিয়েছিলেন আরিয়ানা। গত বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে আফ্রিকান-আমেরিকান আরিয়ানা মিয়ামোতো স্বপ্ন ছুঁতে পারেনি। শুধুমাত্র মিশ্র বর্ণের হওয়ার কারণে পাশে থাকেনি নিজের দেশের মানুষ। সংবাদ মাধ্যমের সামনে তাঁকে দিয়ে বলানো হয় ‘যথেষ্ট’ জাপানি না হতে পারার কারণে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় জাপানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে না সে। অথচ আফ্রিকা নয়, আমেরিকা নয়, দেশ বলতে আরিয়ানা সেদিন বুঝত জাপানকেই, আজও তাই।

আরিয়ানার আগে মিশ্র বর্ণের কেউ জাপানের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ভাবতেও পারেনি।

ঠিক এক বছরের মাথায় এবারের ছবিটা অনেকটা অন্যরকম। তবে ঝরঝরে জাপানি বলতে পারা ওশিকাওয়ার লড়াইটা তার একার না। জাপানের মতো রক্ষণশীল সমাজের দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লক্ষের কাছাকাছি মিশ্র বর্ণের শিশু জন্মায়। জাপানি ভাষায় এদের বলে ‘হাফু’। তেমনই এক হাফুর হাত ধরে এবার সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিশ্ব মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করবে জাপান।  

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here