সময় গিয়েছে চলে কুড়ি-কুড়ি বছরের পার; পটার সিরিজের প্রথম বই প্রকাশের দু’দশক পূর্ণ

0
831

ওয়েব ডেস্ক: তিনি নিজে মনে করেন পৃথিবীটাকে বদলে ফেলতে কোনো জাদু জানতে হয় না, মানুষের ভেতরের শক্তি দিয়েই বদল আনা যায়। অথচ জাদুর দুনিয়া দিয়ে নিজেই সারা ফেলেছিলেন দুনিয়া জুড়ে। বলছি, হ্যারি পটারের স্রষ্টা জেকে রাউলিং-এর কথা। ১৯৯৭ এর ২৬ জুন প্রকাশিত হল পটার সিরিজের প্রথম বই ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোজফারস স্টোন’। বাকিটা ইতিহাস।

ছোট্ট মেয়েকে ঘুম পারিয়ে দিনের পর দিন চলত লেখা। এডিনবরার ক্যাফেগুলো সাক্ষী থেকেছে সেই সব সময়ের। এই ভাবেই ১৯৯৫ -এ প্রথম লেখার খসরা সম্পূর্ণ হল। প্রকাশক কোথায় পাবেন? দু বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর অবশেষে মিলল প্রকাশক। ব্লুমসবেরি থেকে প্রকাশিত হল ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোজফারস স্টোন'( কোনো কোনো দেশে বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সরসরাস স্টোন’ নামে)। প্রথমে ছাপা হয়েছিল মাত্র ৫০০ কপি।

এর আগে ইংরেজি শিশু সাহিত্যে এনিড ব্লাইটন সিরিজ জনপ্রিয় ছিল বটে, কিন্তু হ্যারি পটার বাজারে এসে জনপ্রিয়তার সংজ্ঞাটাই দিল বদলে। ৯০ কিংবা তার পরের দশকে বড় হয়ে ওঠা শিশুকিশোরদের ছোটবেলাটা হয়ে উঠল হগওয়ার্ডসময় (হ্যারি পটারের আবাসিক স্কুলের নাম হগ ওয়ার্ডস)। এবং সেটা কিন্তু গোটা পৃথিবী জুড়েই। শৈশবটা যারা এ বাংলার মফস্‌সলে কাটিয়েছে, তারাও বইমেলায় ছেয়ে যেতে দেখেছে ‘সচিত্র হ্যারি পটার’ (হ্যারি পটার সিনেমা মুক্তির পর পর প্রকাশিত)। হ্যারি অনুরাগীরা তখন বাবা মায়ের কাছে আবদার জুড়েছে প্যাঁচা পোষার।

সিরিজের মোট সাতটা বই প্রকাশের ঘটনার সঙ্গেই জড়িয়ে গিয়েছে কোনো না কোনো ইতিহাস। ২০০০ সালে বিশ্বের সব দেশেই মাঝ রাতে লঞ্চ করল সিরিজের চতুর্থ বই গবলেট অব ফায়ার। একবার তো বই মুক্তির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ভোর ৩টে ৪৫ মিনিট। কারণটাও অদ্ভুত। কোনো ভাবেই যেন পড়ুয়ারা স্কুল ফাঁকি না দেয়। সন্তানের নেশা কাটানোর জন্য বই কেড়ে নিয়ে অভিভাবকরা নিজেই বুঁদ হয়ে গেছেন হ্যারি, রন আর হারমেয়নির জগতে, এমন ঘটনাও কিন্তু কম ঘটেনি।

প্রথম বই প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই হ্যারি আর তার সহপাঠীদের আলোচনায় ব্যবহৃত শব্দ জায়গা করে নিল অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে- ‘মাগল্‌’। অর্থ, যে ব্যক্তি অতি সাধারণ। হগ ওয়ার্ডসে অবশ্য ‘ম্যাজিক’ না জানা যে কেউই মাগল্‌। হ্যারিজ্বরে আক্রান্ত খুদে পাঠকের দল তখন মজেছে নতুন খেলায়। ঝাড়ুর ওপর চেপে সাঁ করে উড়ে গিয়ে খেলতে হয় কুইডিচ। খেলার জনপ্রিয়তা কোথায় পৌঁছলে কয়েক বছরের মধ্যে সেই খেলার বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়, তা আর নতুন করে বলে দিতে হয় না।

বই থেকে সিনেমা। হ্যারির চরিত্রে ড্যানিয়েল র‍্যাডক্লিফ। ইতিহাসের এক একটা অধ্যায়। প্রতিটা ছবি নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। সাম্প্রতিক ছবি হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোজ জায়গা করে নিয়েছে সর্বকালের সেরা আটটি বাণিজ্যিক ছবির তালিকায়।

হ্যারি পটার আর তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চরিত্রগুলোর জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে মনে পড়ে যাচ্ছে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। গত বছরের শেষ দিকে একদল সমালোচক ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনা করেছিলেন ভোলটামোর্ড( পটার সিরিজের খলনায়ক)-এর সঙ্গে। বিতর্কে অংশ নিয়ে স্বয়ং লেখক অবশ্য মন্তব্য করেছিলেন, ভোলটামোর্ড অতটাও খারাপ না।

পাঠকের সঙ্গেই বেড়েছে হ্যারি আর তার সাঙ্গ পাঙ্গদের বয়স। ওরা এখন মধ্য তিরিশে। ঘনিষ্ঠ দুই সহপাঠীর সঙ্গে বহু বছর পর ফিরছে হগওয়ার্ডসে। সেই নিয়েই রাউলিং-এর নাটক ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য কার্সড চাইল্ড’। ছবি হিসেবে মুক্তি পাবে আগামী বছর। আবার রূপকথায় ভাসবে আপামর ‘মাগল্‌’দুনিয়া।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here