কুয়ালা লামপুর : মালয়েশিয়ার কুয়ালা লামপুরে একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলে আগুন লেগে মৃত ২৩ জন। এদের মধ্যে ২ জন ওয়ার্ডেন, বাকি সকলেই পড়ুয়া। স্কুলের নাম দারুল কুরান ইত্তিফাকিয়াখ। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে তিন তলা স্কুল বাড়ির ওপরের তলার ডরমেটরিতে আগুন লাগে। সেখানে ব্যাঙ্ক বেডে পড়ুয়ারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক ভাবে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে বা মশা মারার বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে আগুন লাগতে পারে। বাড়ির প্রত্যেকটি জানলাই ধাতব গ্রিল দিয়ে আটকানো ছিল। ফলে অনেকেই জানলা টপকে আত্মরক্ষা করতে পারেনি। তবে বেশির ভাগই দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত এক জন জানিয়েছে, কেবলমাত্র একটা জানলাই কোনো রকমে ভাঙা গেছে।

এই স্কুলে কোরানের পাঠ দেওয়া হয়। স্কুলটি সরকারি শিক্ষা দফতরের আওতাধীন নয়। এর দায়িত্ব ছিল ধর্মীয় বিভাগের।

কুয়ালা লামপুর পুলিশ প্রধান অমর সিংহ বলেন, এই আগুন নেভাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। মৃতদের বেশির ভাগই কিশোর। ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে ২১ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। দু’ জন শিক্ষকও মারা গেছেন। আগ্নিকাণ্ডের কারণ জানার জন্য তদন্ত এখনও চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক জন শিক্ষক জানান, প্রথমে ঘুমন্ত অবস্থায় আসলে কী ঘটেছে বোঝা যায়নি। মনে হয়েছিল বাজ পড়ছে, সঙ্গে সকলের চিৎকার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সাহায্যের জন্য জানলার বাইরে ছোটো ছোটো হাতগুলো বাড়িয়ে পড়ুয়ারা চিৎকার করে কাঁদছিল।

স্কুলটির প্রিন্সিপ্যাল মহম্মদ জাহিদ বলেন, এটা একটা বেসরকারি ইসলামি কেন্দ্র। এখানে মূলত ছোটো ছেলেরা কোরানের পাঠ নেয়। মূল স্কুলবাড়িতে মেরামতির কাজ চলছে। তাই সাময়িক ভাবে পড়ুয়ারা এখানে ছিল। এই মাসের শেষের দিকেই মূল বাড়িতে ফেরার কথা। তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে স্কুলটা চলছে।

কিন্তু এর কোনো নথি নেই বলে জানিয়েছে রাজ্যের ধর্মীয় কাউন্সিলের আধিকারিকরা। এই বছরের এপ্রিলে সারা দেশে ৫১৯টা এমন স্কুল নথিভুক্ত করা হয়েছে। তা ছাড়াও আরও বহু এমন অ-অনুমোদিত স্কুল আছে।

উল্লেখ্য ১৯৮৯ সালে কেদাহ রাজ্যে আরও একটা এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেটাও ছিল বেসরকারি ইসলামিক স্কুল। তাতে ২৭ জন ছাত্রী মারা গিয়েছিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here