ওয়েবডেস্ক : আইসক্রিম, পিৎজা মিলিয়ে প্রায় ৩৩৫০ কিলোগ্রাম জিনিসপত্র পাঠানো হল মহাকাশে। মহাকাশে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’-এ গবেষণারত ছয় মহাকাশচারীড় জন্য এই সব খাবার সমেত একটা রকেট পাঠানো হল। এঁদের মধ্যে তিন জন মার্কিন, এক জন ইতালীয়, দু’ জন রুশ। রবিবার ওয়ালপস দ্বীপ থেকে মানবহীন অনটারেস রকেট উৎক্ষেপণ করা হল। নাসার সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ অর্বিট্যাল এটিকে থেকে এটি মহাকাশে পাঠানো হল। আগামী মঙ্গলবার স্পেস স্টেশনে এর পৌঁছে যাওয়ার কথা।

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ফ্রজেন ফ্রুট বার, আইসক্রিম বার, ভ্যানিলা আর চকলেট আইসক্রিম কাপ, আইসক্রিম স্যান্ডউইচ সব মিলিয়ে ৮০টা। ইতালীয় বিজ্ঞানী পাওলো নেসপলি কয়েক মাস ধরেই পিৎজা খেতে চাইছিলেন। তাই রয়েছে পিৎজা। এই মহাকাশযানে করে ১৪টা ক্ষুদ্র উপগ্রহ ‘কিউবস্যাট’ও পাঠানো হয়েছে।

 

এই নিয়ে নাসার এক জন মহাকাশবিজ্ঞানী জোসেফ এম অকাবা টুইট করেছেন। তিনি বলেন, পিৎজা আর আইসক্রিম আসছে। তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন খাবারগুলো এসে পৌঁছোনোর জন্য।

এই মহাকাশযানে গবেষণার অংশ হিসেবে রয়েছে অভিকর্ষীয় টান কম থাকলে ই-কোলি ব্যাকটেরিয়ার আচরণ কেমন হয়? এদের বৃদ্ধি কেমন হয়? আর কমপক্ষে কতটা অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে এদের বৃদ্ধি বন্ধ করা যায়? পাশাপাশি লম্বা দূরত্ব অতিক্রম করার সময় পোকামাকড়ের আচরণই বা কেমন হয়? এই সব। মহাকাশে মানুষ পাঠানো বা ২০৩০ সালের মধ্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর মতো ক্ষেত্রে গবেষণায় মার্কিন স্পেস এজেন্সিকে এই সমস্ত তথ্যই সাহায্য করবে।

এই মহাকাশযানটা ডিসেম্বরের শুরু অবধি স্পেস স্টেশনেই থাকবে। তার পর সেখানে অল্প দূরত্বে কয়েকটা উপগ্রহ প্রেরণে এটাকে ব্যবহার করা হবে।

প্রসঙ্গত এই অর্বিট্যাল এটিকে উৎক্ষেপণের কাজে প্রথম বার ব্যবহার করা হয়েছিল বছর খানেকেরও বেশি আগে। আর শেষ বার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে মহাকাশ যান উৎক্ষেপণে। এ বারে এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল সূর্য ওঠার পর পরই। এটা দক্ষিণপূর্ব দিকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। সূর্যের আলোয় দেখার সমস্যা হলেও দেখা যাচ্ছিল বহুদূর পর্যন্তই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here