টোকিও : নির্ধারত সময়ের ২০ সেকেন্ড আগে ট্রেন স্টেশন ছাড়ার জন্য গভীরভাবে ক্ষমা চেয়েছে জাপানের রেল কর্তৃপক্ষ। জাপানের টিসুকুবা এক্সপ্রেস ট্রেন মিনামি নাগারেয়ামা স্টেশন থেকে ৯টা বেজে ৪৪ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের পরিবর্তে ২০ সেকেন্ড আগেই টোকিওর দিকে রওনা হয়। অর্থাৎ ৯টা ৪০ মিনিট ২০ সেকেন্ডে। সময়টা মাত্র ২০ সেকেন্ড হলেও তা মোটেই হেলাফেলার বিষয় নয়। এটাকে একটা ‘সাংঘাতিক ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেছে টিসুকুবা এক্সপ্রেস সংস্থা। রেলের সময়ানুবর্তিতা আর পরিষেবার জন্য জগৎ বিখ্যাত জাপানের রেল। রেল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র বলেছেন, ট্রেন আগে ছাড়ার ফলে অনেক বড়ো ক্ষতি হতে পারত। এই ক্ষমা চাওয়ার কারণ হল এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো মানা হয়নি। যদিও যাত্রীদের পক্ষ থেকে এর প্রেক্ষিতে কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। কেউ ট্রেন ধরতে পারেনি এমন ঘটনাও ঘটেনি।

জাপানের বিশেষত টিসুকুবার বুলেট ট্রেনের ঠিক সময়ে আসা যাওয়ার জন্য জগৎ জোড়া সুনাম আছে। সামান্য দেরি হলেও সংস্থা তার জন্য ক্ষমা চায়।

রেলের মুখপাত্র বলেন, ঘটনাটা শুধু মাত্র ২০ সেকেন্ডের নয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন ছাড়ার ১৫ সেকেন্ড আগে একটা বেল বাজে। তার পর একটা ঘোষণা করা হয়। তাতে দরজা বন্ধ করার আগে যাত্রীদের সতর্ক হতে বলা হয়। তার পর দরজা বন্ধ হয়। অনেক সময় যাত্রীরা দরজা থেকে নামতে যান। সেই সময় হঠাৎ দরজা বন্ধ হলে বড়োসড়ো বিপদ ঘটতে পারে।

প্রসঙ্গত, ক্ষমা চাওয়ার এই ব্যাপারটা খোদ জাপানিদের কাছেই খুবই অদ্ভুত লেগেছে। তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন সোশ্যাল মাধ্যমগুলোতে সেই রকমই ভাব ব্যক্ত করেছে।

টুইটে কেউ কেউ বলেছেন, ২০ সেকেন্ডের পার্থক্যে যেখানে একটা সংস্থা এতটা ক্ষমা চাইছে সেখানে সে দেশেই অ্যালুমিনিয়াম স্টিল ইত্যাদির ক্ষেত্রে ভুয়ো তথ্য দিয়ে দেওয়া হয়। গাড়ি কার্যকারিতা যাচাইয়ের পর নির্দিধায় জাল তথ্য দেওয়া হয়।

কেউ বলেছেন, জাপানি হয়েও এই ঘটনায় অবাক হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সকলেরই উচিত চাপ না নেওয়া। নিশ্চিন্তে থাকা।

উল্লেখ্য জাপানের গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা নিশান আর সুবারু মেনে নিয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রশিক্ষিত লোকজন গাড়ির পরীক্ষা নিরীক্ষা করে। আবার কোবে স্টিল সংস্থা ভুয়ো তথ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই নানা জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here