popi rani das toronto

ওয়েবডেস্ক: পণের টাকা আদায়ে স্বামীর অত্যাচার এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে গ্লাসভর্তি অ্যাসিড তুলে দেয় জ্বরে আক্রান্ত স্ত্রীর হাতে। অসুস্থ শরীরে গন্ধহীন সেই অ্যাসিড জল ভেবেই পান করে ফেলেন পপিরানি দাস। কিছুক্ষণের মধ্যেই যা ছড়িয়ে পড়ে তাঁর গলা হয়ে শ্বাসনালী, পাকস্থলী, যকৃৎ মায় শরীরের অভ্যন্তরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যেঙ্গে। জ্বালা-যন্ত্রণায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া দলা পাকানো শরীরটাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সাত বছর কেটে যায় সেখানে।এক জন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যে ন্যূনতম স্বাভাবিকত্বের প্রয়োজন হয়, তার অভাবে ঢাকা হাসপাতালের একে বারে উপরের তলার একটা ঘরেই কাটিয়ে দিয়েছেন সাতটি বছর। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, আর একটু ভালো বন্দোবস্থ থাকলে পপিকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা যেত।

২০১৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসে অগ্নিদগ্ধ মাহিলাদের নিয়ে একটি প্রকল্পের কাজে ঢাকায় যান টরন্টোর প্লাস্টিক সার্জেন ডা. টনি ঝং। ঘটনাক্রমে পপির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ওই হাসপাতালে উন্মুক্ত ঘরে এমন এক ভয়ানক রোগীকে দেখে চমকে ওঠেন তিনি।তিনি পপিকে দেখে প্রতিশ্রুতি দেন টরন্টো নিয়ে গিয়ে তাঁর চিকিৎসা করে সারিয়ে তুলবেন সমস্ত খুঁত। যে পপি শুধু জল ছাড়া কিছু খেতে পারেন না, তাঁকে ফিরিয়ে দেবেন তাঁর পুরনো খাদ্যাভ্যাস। স্বাভাবিক জীবন।

কথা রেখেছেন ডা. ঝং। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পপিকে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। চলতে থাকে একের পর এক সার্জারি। ১০ মাস পর নিজের মা অজন্তাদেবীকে পাশে নিয়ে অজস্র দর্শকের সামনে পপি বলে উঠলেন-‘আমি যত তাড়াতাড়ি পারি আমার জন্মভূমি বাংলাদেশে ফিরে যাব। তবে বাড়ি ফিরে গিয়েও এই উন্নত দেশের কথা কোনো দিন ভুলব না, যে আমাকে আবার নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ করে দিয়েছে।’ ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারবেন না পপি। কারণ ডা. ঝং ইতিমধ্যেই গঠন করে ফেলেছেন ‘পপি ফান্ড’ নামে একটি সংস্থা। যা বিভিন্ন দেশ থেকে দু:‌স্থ রোগীদের কানাডায় নিয়ে এসে চিকিৎসা করছে।

পপির সাহস, ধৈর্য এবং সহ্যশক্তিকে কুর্নিশ করে ডা. ঝং বলেছেন, ‘সার্জারিগুলি খুব একটা সহজ ছিল না। শরীরের অভ্যন্তরের প্রায় সমস্ত অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। জটিল ওই সার্জারি কখনোই সম্ভব হতো না যদি পপি সহযোগিতা না করত।’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here