সামারভিল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৩ লক্ষ যুবক-যুবতী (বয়স ১৬ থেকে ২৪ এর মধ্যে), যাঁদের কোনো প্রথাগত শিক্ষা নেই, চাকরি নেই, তাঁদের কাজের সুযোগ করে দেয় ‘ইউথ বিল্ড’ সংস্থা। আগামী সপ্তাহে সংস্থায় নিয়োগ করা হচ্ছে নতুন সিইও, জন ভালভারদে। ভাবী সিইও-র নাম শুধু ভারতে কেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই কতজন শুনেছেন, সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। পৃথিবীর যেকোনো সংস্থার যেকোনো সিইও-র তুলনায় অনেকটাই আলাদা ভালভারদের জীবন। ১৬ বছর জেল খেটে মুক্তি পান ২০০৮ সালে। প্রেমিকার ধর্ষককে গুলি করে মেরে ফেলেছিল জন। তারই শাস্তি স্বরূপ কাটাতে হয় দীর্ঘ কয়েদি জীবন।

মাত্র ২০ বছর বয়সে জনের জেল হয়। সেটা ১৯৯১ সাল। কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিও পান জেলে বসেই। পাশাপাশি চলতে থাকে, বাকি কয়েদিদের অক্ষর চেনানো, লিখতে শেখানো। সঙ্গীদের মধ্যে এইচআইভি, এইডসের সচেতনতা বাড়ানোতেও উদ্যোগী ছিলেন জন।

“আমি প্রথম থেকেই জানতাম, যেটা করেছি, সেটা ঠিক নয়, তাই সময় লাগলেও মেনে নিয়েছিলাম শাস্তি”, বলেছেন তিনি। ২০০৮ সালে মুক্তির পর টানা সাত বছর যুক্ত ছিলেন অসবোর্ন অ্যাসোসিয়েশানের সঙ্গে, যারা কাজ করে আমেরিকার জেল খাটা মানুষদের নিয়ে, তাদের জীবনকে উন্নত করার জন্য। আজকে যখন খবরের শিরোনামে, তখনও নিজের অতীত জীবন নিয়ে যথেষ্ট খোলামেলা ভালভারদে। বললেন, “তরুণ প্রজন্ম আমার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে পারে। তারাও যেন বিশ্বাস করে নিজেদের ক্ষমতার ওপর”।

মার্সি কলেজ থেকে বিহেভিয়ারাল সায়েন্সে স্নাতক, তারপর স্নাতকোত্তর পাশ করেন নিউ ইয়র্ক থিয়োলজিকাল সেমিনারি থেকে। ‘ইউথ বিল্ড’ সংস্থার সম্ভাব্য ভাবী সিইও-র তালিকায় ছিলেন ১২৫ জন। তার মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে জন ভালভারদেকে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here