malala yousufzai

ওয়েবডেস্ক: সাড়ে পাঁচ বছর আগে যেখানে তালিবানের হামলা থেকে কোনোক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন সেখানে অবশেষে পা রাখলেন মালালা ইউসুফজাই। সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ীকে নিজেদের কাছে পেয়ে আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠেছে সোয়াত। এরই মধ্যে চলছে বিরোধিতাও।

দিন দুয়েক হল পাকিস্তানে পা রেখেছেন মালালা। তবু জল্পনা চলছিল নিজের জন্মস্থানে যাবেন কি না। শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে সোয়াতে পৌঁছোন মালালা। তাঁর দেখা পেয়ে আনন্দিত সোয়াতের অধিকাংশ মানুষ।

মালালা যে স্কুলে পড়তেন সেই স্কুলের ছাত্রী আরফা আখতর বলেন, “মালালা যে আমাদের কাছে এসেছে তার জন্য আমরা খুব খুশি। মালালাকে স্বাগত জানাই। যে লক্ষ্যে মালালা এগোচ্ছে তাতে আমার পুরো সমর্থন রয়েছে।”

যখন ছোটো ছিলেন তখন মালালাকে কোলে নিয়ে ঘোরার কথা মনে করেন বছর ৬৬-এর বরকত আলি। মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে মালালা যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাতে মালালাকে তিনি বাহবা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তালিবানরা অশিক্ষিত। তারা শুধু চায় আমাদের মেয়েরা যাতে পড়াশোনা না করে।” তবে মালালার পরে সোয়াতে মানুষের মধ্যে মানসিকতার পরিবর্তন এসেছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “এখানকার মানুষ এখন তাদের মেয়েদের শিক্ষিত করতে চায়।”

২০০৭-এ সোয়াতের দখল নেয় তালিবান। তার পর থেকে গোটা অঞ্চলে যথেচ্ছাচার চালিয়ে যায় তারা। মেয়েদের বাড়ি থেকে বেরোনোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পাশাপাশি আরও অনেক কিছুই করে। এর পর ২০০৯-এ পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হেরে সোয়াতের দখল ছেড়ে দেয় তারা। তবুও তাদের প্রভাব রয়ে গিয়েছে এখনও। অতর্কিত তালিবান হামলার ভয়ের মধ্যেও মানুষ সাহস সঞ্চয় করেছেন। এখন স্কুলে যাচ্ছে মেয়েরা।

তবে সোয়াতের সবাই যে মালালাকে নিয়ে খুশি এমন বললেও ভুল হবে। বিরোধিতাও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মহাম্মদ নিসার খানের বক্তব্য মালালাকে নিয়েই শুধু চর্চা হয়, অথচ তালিবানের বিদ্রোহ করা বাকিদের নিয়ে কিছুই হয় না। তাঁর কথায়, “আমরা প্রথম তালিবানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। আমার চার কাকা আর দুই ভাইকে নৃশংস ভাবে খুন করে তালিবানরা। কিন্তু আমার কথা তো কেউ কখনও জিজ্ঞেস করেনি।”

পাকিস্তানের অন্যত্র মালালাকে নিয়ে বিক্ষিপ্ত বিরোধিতা চোখে পড়েছে। শুক্রবার লাহৌরে কয়েকটি স্কুলের তরফ থেকে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্লোগান ওঠে ‘আমি মালালার সঙ্গে নেই।” মালালা পাকিস্তান, ইসলাম ধর্ম এবং পাকিস্তান সেনাকে অপমান করেছেন বলে দাবি করেন বিক্ষোভের আয়োজক কাশিফ মির্জা।

তবে বিরোধিতা নিতান্তই বিক্ষিপ্ত। তালিবান দখলের স্মৃতি কাটিয়ে আপাত শান্ত সোয়াতের এখন একটাই দাবি, “আবার ফিরে আসুক মালালা।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here