aung san suu kyi
আউং সান সু কি। ছবি এসবিএস।

ওয়েবডেস্ক: আউং সান সু কি-কে দেওয়া সম্মান প্রত্যাহার করে নিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একদা গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে খ্যাত মায়ানমারের এই নেতাকে চিঠি লিখে অ্যামনেস্টি বলেছে, “সু কি আর আশা, সাহস ও মানবাধিকারের চিরন্তন রক্ষকের প্রতীক নন। আমরা গভীর ভাবে আশাহত।”

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল কুমি নাইদু রবিবার এক চিঠিতে সু কি-কে লিখেছেন, “‘অ্যাম্বাসাডর অফ কনসায়েন্স’ সম্মানের প্রাপক হিসাবে আপনি যে মর্যাদা পাচ্ছেন, তা আর চালিয়ে যাওয়ার কোনো যুক্তি দেখছে না অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাই আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে এই সম্মান ফিরিয়ে নিচ্ছি।”

আউং সান সু কি ২০০৯ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সর্বোচ্চ সম্মান ‘অ্যাম্বাসাডর অফ কনসায়েন্স’-এ ভূষিত হন। তখন তিনি নিজের দেশে গৃহবন্দি ছিলেন। কুমি নাইদু তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, “অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ‘অ্যাম্বাসাডর অফ কনসায়েন্স’ হিসাবে আপনার নৈতিক কর্তব্য হল শুধু মায়ানমারই নয়, পৃথিবীর যেখানে যখন অন্যায় অবিচার হবে আপনি তার প্রতিবাদ করবেন। এটাই আমরা আশা করি।”

মায়ানমারে কয়েক দশক ধরে সামরিক শাসন চলার পর ২০১৫ সালে সু কি-র ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি’ বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতা দখল করে। রাখাইন প্রদেশের ১০ লক্ষেরও বেশি রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা মুসলিমদের হয়ে একটি কথাও না বলার জন্য মায়ানমারের কার্যত অবিসংবাদী নেতা আউং সান সু কি বহুল সমালোচিত।

আরও পড়ুন বারাণসীতে আন্তঃরাজ্য নদী বন্দর উদ্বোধন মোদীর, স্বাগত জানালেন ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’কে

মায়ানমার মনে করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং বৈধ জাতিগোষ্ঠী হিসাবে তাদের কোনো অধিকারকে স্বীকৃতি দেয় না। সংখ্যাগরিষ্ঠ বুদ্ধিস্ট এবং সেনাবাহিনীর নির্মম অত্যাচারের শিকার এই রোহিঙ্গারা। এই অত্যাচারে প্রাণ গিয়েছে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গার, ধর্ষিত হয়েছে অসংখ্য মেয়ে। প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছে বহু মানুষ। তাদের অনেকে আবার ভারতেও আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়।

সু কি-কে সাম্মানিক নাগরিকত্ব দিয়েছিল কানাডা। অক্টোবরে সেই সম্মান তারা ফিরিয়ে নিয়েছে। অক্সফোর্ড, ডাবলিন, গ্লাসগো আর নিউ ক্যাসল দিয়েছিল ‘ফ্রিডম অফ সিটি’ সম্মান। সে সন সম্মানও ফিরিয়ে নিয়েছে তারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোলোকাস্ট মিউজিয়াম ২০১২ সালে তাঁকে একটি মানবাধিকার সম্মান দিয়েছিল। সেটাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ১৯৯১ সালে সু কি-কে দেওয়া হয়েছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার। সেই পুরস্কারও ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে। সেই দাবি না মানলেও  নোবেল কমিটি বলেছে, মায়ানমারে সু কি-র কর্মকাণ্ড দুঃখজনক।

গত আগস্টে রাষ্ট্রপুঞ্জের তদন্তকারীরা বলেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যে ভাবে গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালানো হয়েছে, তাতে বোঝাই যায়, একটা জাতিকে একেবারে খতম করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছে। নৃশংসতম অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে মায়ানমারের কমান্ডার ইন-চিফ এবং পাঁচ জেনারেলের বিচার হওয়া উচিত বলে তাঁরা মনে করেন।

 

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here