আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের লড়াইয়ে কেন উদ্বেগ বাড়ছে ইরানের?

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে প্রায় ১২ দিন ধরে সংঘর্ষ (Armenia-Azerbaijan conflict) চলছে। দু’টি দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা ও গোলা বর্ষণের অভিযোগ করছে। বিরোধপূর্ণ অঞ্চল নাগার্নো-কারাবাখের দখল নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে শুরু হয়েছে এই সংঘাত।

সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি হুঁশিয়ারি দিয়ে উভয় দেশকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে এই লড়াই আঞ্চলিক যুদ্ধ উস্কে দেবে।

কেন উদ্বেগে ইরান?

এই লড়াইয়ে ইরানের জড়িয়ে পড়ার প্রাসঙ্গিক কারণ রয়েছে বলেও মনে করেন কূটনীতিকরা। কারণ, ইরানের সঙ্গে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সীমান্ত রয়েছে।

অন্যদিক এমনটাও জানা গিয়েছে, তুরস্ক এই যুদ্ধে আজারবাইজানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সাম্প্রতিককালে ইজরায়েলের সঙ্গে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ইজরায়েলি ড্রোন এবং অন্যান্য অস্ত্র কিনেছে আজারবাইজান। আবার আর্মেনিয়ার সঙ্গে পরাশক্তি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। ফলে এই যুদ্ধ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তেহরান।

গত বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, “আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার লড়াই যেন আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে মোড় না নেয়, সে জন্য আমাদের অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে”।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দু’টি দেশের সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক এবং জাতিগত যে সম্পর্ক, তাতে তারা কঠিন একটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করছে। যদিও নাগোর্নো-কারাবাখের উপর আজারবাইজানের সার্বভৌমত্ব ইরান গোড়া থেকে সমর্থন করে আসছে, কিন্তু অতীতের মতো এ বারও ইরান বারবার বলার চেষ্টা করছে, এই বিরোধে তারা কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।

পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে!

এর আগে রানের সীমান্ত-রক্ষী বাহিনীর প্রধান কাসেম রাজেই বলেছিলেন,আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর কিছু গোলা তাদের দেশের ভিতরে এসে পড়েছে। যে কারণে উত্তর সীমান্তে সৈন্যদের বিশেষ ভাবে সজাগ করা হয়েছে।

বুধবার একই কথা বলতে শোনা যায় ইরানের প্রেসিডেন্টকেও। তিনি জানিয়ে দেন, ইরানের মাটিতে অন্য কোনো দেশের গোলা অথবা ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়া কোনো মতেই মেনে নেওয়া যায় না। নিজেদের শহর এবং গ্রামের নিরাপত্তাই যে তাঁদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে, সে কথাও স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন রুহানি।

এখান থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাত যদি আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, সেখানে ইরানের উদ্বেগ বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। একই সঙ্গে তুরস্ক এবং রাশিয়ার কৌশল হয়তো ইরানকেও বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।

ইরান কি হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে?

অনলাইনে শেয়ার করা বেশ কিছু ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ইরানের একটি সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র নিয়ে আর্মেনিয়াতে ট্রাক ঢুকছে। এই ভিডিয়োর সত্যাসত্য যাচাই করা হয়েছে কি না, জানা যায়নি।

তবে একটি মহল থেকে অভিযোগ উঠছে, তলে তলে আর্মেনিয়াকে সাহায্য করছে ইরান। এহেন অভিযোগ নস্যাৎ করেছে ইরান। বলা হয়েছে, এগুলি ভিত্তিহীন অপপ্রচার।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেখানো হয়েছে, আর্মেনিয়ার সঙ্গে নেরাদুজ সীমান্তে যে সব রুশ নির্মিত ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে, তা সংঘাত শুরুর আগে রাশিয়া থেকে কিনেছিল আর্মেনিয়া। যেগুলো ইরানের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। আর ওই সমস্ত ট্রাকে অস্ত্র নয়,গাড়ির যন্ত্রপাতি রয়েছে।

নজর রাখছে ভারত!

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সংঘাতে ভারত নিবিড় ভাবে নজর রাখছে। মনে করছে, শুধুমাত্র ড্রোন দিয়ে যুদ্ধে জেতা যায় না।

ভারতের শীর্ষ সামরিক আধিকারিকরা পুরো বিষয়টার উপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে। ভিডিও ফুটেছে দেখা গিয়েছে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে হলে, তা আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। কারণ শুধুমাত্র ড্রোন দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না। আরও উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন