ওয়াশিংটন: আমাদের সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ঢোকার জন্য  তাড়াহুড়ো করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই এর খরচা বহন করতে হয়, বোঝাও বইতে হয়। লাভের গুড় খেয়ে যায় অন্যরা, তারা তো কিছুই দেয় না। যেমন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি। এই চুক্তি একপেশে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কোটি কোটি ডলার ঢেলে যাচ্ছে, আর চিন, রাশিয়া, ভারতের কোনো অবদান নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না – এ সব কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্যারিস চুক্তি নিয়ে শীঘ্রই একটা ‘বড়ো সিদ্ধান্তের’ প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রেসিডেন্ট।

১০০ দিন ক্ষমতায় থাকা উদযাপন করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শনিবার পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশের আয়োজন করেন। অনেকটা সেই নির্বাচন-পূর্ব প্রচারসভার মতো। সেই সভাতেই তিনি প্যারিস চুক্তি নিয়ে তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন। আর জনতাও তাঁর সঙ্গে দুয়ো দিতে থাকেন। তিনি বলেন, “আমি দু’ সপ্তাহের মধ্যেই প্যারিস চুক্তি নিয়ে একটা বড়ো সিদ্ধান্ত নেব। কী হয় আমরা দেখব।”

আবহাওয়ার পরিবর্তন সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের কনভেনশনের কাঠামোর (ইউএন ফ্রেমওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ) মধ্যে থেকে ২০১৫ সালে যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হয় তাতে সই করে ১৯৪টি দেশ। এর মধ্যে ১৪৩টি দেশ চুক্তি অনুমোদন করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী ঠিক হয় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে বিশ্বের তাপমাত্রার গড় বৃদ্ধি শিল্প-পূর্ব সময়ের তাপমাত্রার তুলনায় ২ ডিগ্রির বেশি রাখা যাবে না। ট্রাম্পের দাবি, এই সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হলে ১০ বছরে আমেরিকার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) ২.৫ ট্রিলিয়ন (২ লক্ষ ৫০০০০ হাজার কোটি) ডলার কমে যাবে। তিনি বলেন, “এর অর্থ সারা দেশ জুড়ে কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।”

তাঁর অভিযোগ, এ সব নিয়ে ওয়াশিংটনের ‘অসৎ সংবাদমাধ্যম’ কিছু রিপোর্ট করবে না। “বিশ্বাস করুন, ওদের অগ্রাধিকার আমার অগ্রাধিকার নয়, আপনাদেরও অগ্রাধিকার নয়। ওরা একটা ভগ্ন ব্যবস্থার অংশ, যে ব্যবস্থা আমেরিকার কর্মীর ক্ষতি করে আমেরিকার সম্পদ লুঠ করে, চুরি করে আখের গুছিয়েছে। এখন থেকে অন্য কোনো দেশকে আমাদের ঘাড়ে চেপে সুবিধা ভোগ করতে দেব না, এখন থেকে ভাবব প্রথমে আমেরিকা।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here