বালি (ইন্দোনেশিয়া): চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রিসর্ট আইল্যান্ড বালিতে। মাউন্ট আগুং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে বালি দ্বীপের আই গুসটি নগুরাহ রাই বিমানবন্দরে বিমান চলাচল আপাতত ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, এর প্রভাব পড়েছে প্রায় ৪৪৫টা বিমান ওঠানামায়। আগ্নেয়গিরির ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থেকে পর্যটক-সহ সবাইকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। যে কোনো মুহূর্তেই বিশালাকারের অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় ৪০০০ মিটার উঁচু পর্যন্ত ছাই, ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে।

গত সেপ্টেম্বর থেকেই এই আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষকে এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। পর্যটকদের প্রিয় এই বালি দ্বীপ রয়েছে প্যাসিফিক রিং অব ফায়ারে। অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের মধ্যে।

বিমানবন্দরের এক জন আধিকারিক পি টি আঙ্গকাসা পুরা বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানগুলির চলাচলের জন্য ৫টি বিকল্প বিমানবন্দরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজে লাগানো হচ্ছে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিমানবন্দরও। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বালি বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর, শ্রিওয়াইজায়া, গরুড়, ইন্দোনেশিয়া, টাইগার এয়ার, জেটস্টার ও মালয়েশিয়ান বিমান সংস্থার বিমান বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কুয়ালালামপুর, ডেনপাসার-বালি বিমানও।

মালয়েশিয়ান বিমান সংস্থা বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের পুরো ক্ষতিপূরণ দেবে। তা ছাড়াও ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অন্য কোনো জায়গায় যাওয়ার সুযোগও দেবে বলে জানিয়েছে। অবশ্যই তা আসন সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে ১৯৬৩ সালে এই আগ্নেয়গিরি শেষবার জেগে উঠেছিল। সে বারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল সাংঘাতিক। প্রায় ১৬০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here