black labrador

ওয়েবডেস্ক: আবার সে এসেছে ফিরিয়া! আর কী বা বলা যায় ঘটনাটা সম্পর্কে!

আসলে ১০ বছর তো বড়ো কম সময় নয়। তার মধ্যে ওলোট-পালোট হয়ে যায় প্রায় পুরো পৃথিবীই! অতএব, এই দীর্ঘ সময়কালে যখন একবারের তরেও খোঁজ মিলল না প্রাণের চেয়েও প্রিয় পোষ্যর, তার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন পেনসিলভ্যানিয়ার ডেবরা সুয়েরভেল্ড!

কিন্তু জানুয়ারির শেষের দিকে যখন সেই পোষ্য কালো ল্যাব্রাডর অ্যাবির খবর এল, বিস্ময় আর বিহ্বলতার ঘোর কাটতেই চাইছিল না ডেবরার।

“আমি এখনও বুঝতে পারছি না যে ঘটনাটা নিয়ে কী বলা যায়! সত্যি বলতে কী আমার এখন বাস্তবকেই বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি যে কতটা খুশি হয়েছি, তা বলে বোঝাতে পারব না”, জানিয়েছেন ডেবরা।

ডেবরার বয়ান থেকে জানা গিয়েছে যে বছর দশেক আগে বাড়ির বাচ্চাদের সঙ্গে সামনের বাগানে খেলছিল অ্যাবি। আচমকাই সে দৌড় দেয়! দেখতে দেখতে চলে যায় দৃষ্টিপথের বাইরে। তার পর কম খোঁজাখুঁজি হয়নি তাকে উদ্ধারের জন্য। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দিয়ে ফিরে আসেনি অ্যাবি।

এল ঠিক বছর দশেকের মাথায়। জানা গিয়েছে, সে পথ চিনে চিনে হাজির হয়েছিল সেই বাড়ির বাগানে, যেখান থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল সে। সেই বাড়িতেই তখন থাকতেন ডেবরারা। অ্যাবি চলে যাওয়ার পর আর ওই বাড়িতে মন বসেনি, ফলে বাসা বদল করেন তাঁরা।

অ্যাবি যখন ফিরে এল, তখন সেই বাড়িতে থাকেন জুডি স্পিয়েরনিং। অ্যাবিকে দেখতে পেয়ে তিনি খবর দেন পশুরক্ষকদের। “ওকে দেখে মনে হচ্ছিল যে খুব জল তেষ্টা পেয়েছে। আর এ-ও বেশ বুঝতে পারছিলাম, হঠাৎ করে কুকুরটা এই বাড়িতে চলে আসেনি। এই বাড়িটা ওর চেনা। তাই আমি পশুরক্ষকদের খবর দিই”, জানিয়েছেন জুডি।

এর পরের পর্বটা মোটের উপর সংক্ষিপ্ত। পশুরক্ষকরা অ্যাবির গলায় একটা ট্যাগ দেখতে পান যা ডেবরা একদা পরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ট্যাগে ডেবরার নাম আর ফোন নম্বর লেখা ছিল। তার সূত্রে পশুরক্ষকরা ফোন করেন তাঁকে এবং অ্যাবির নতুন বাড়িতে পুরনো মালিকের কাছে ফিরে আসা জলের মতোই সহজ হয়ে যায়।

তবে এই দশটা বছর অ্যাবি কোথায় ছিল, তা বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি কারও পক্ষেই! কী ভাবেই বা হবে! অ্যাবি তো আর কথা বলতে পারে না। যদিও এটুকু বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি যে সে কোনো সহৃদয় ব্যক্তির কাছেই ছিল। কেন না, সে ফিরে এসেছে বহাল তবিয়তেই!

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন