সাও পাওলো/ব্রাসিলিয়া: ১৯৯৬ সালের পর প্রথম সাধারণ ধর্মঘটে স্তব্ধ হল ব্রাজিল। সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরোর মতো বেশ কয়েকটি শহর রণক্ষেত্র হয়ে উঠল জনাতা-পুলিশ সংঘর্ষে। জ্বালিয়ে দেওয়া হল বাস। প্রেসিডেন্ট মিচেল তেমের-এর সাও পাওলোর বাড়ির উদ্দেশে অভিযানও করে ধর্মঘটের সমর্থকরা।

শ্রমিক আইন দুর্বল করা, বেশি কিছু সরকারি সুযোগ সুবিধা কমিয়ে দেওয়া, পেনশন আইনে পরিবর্তনের মতো বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ করতে চলেছে তেমেকেক নেতৃত্বাধীন ব্রাজিল সংসদ। তাঁদের দাবি, ব্রাজিল যে অর্থানৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার থেকে উদ্ধার পেতেই এগুলো প্রয়োজন।

এদিনের ধর্মঘটে ব্রাজিলের প্রধান শিল্প অটোমোবাইল প্রায় সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। ধর্মঘটে যোগ দেন পেট্রোলিয়াম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য,ব্যাঙ্ক কর্মীরাও। বন্ধ ছিল বহু গণ মাধ্যমও।

বিশাল বিশাল জমায়েত ও বিক্ষোভ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন ‘ধর্মঘট ব্যর্থ’। “সামান্য কিছু মানুষ গায়ের জোরে জনজীবন স্তব্ধ করার চেষ্টা করেছে”। একই সুর শোনা গেছে বিভিন্ন অটোমোবাইল ও পেট্রোলিয়াম সংস্থার কর্তৃপক্ষের মুখে। তাঁরা বলেছেন, ধর্মঘটে উৎপাদনে তেমন প্রভাব পড়েনি। লোহা ও খনি শিল্পের ক্ষেত্রেও একই রকম প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

প্রেসিডেন্ট তেমের অবশ্য তাঁর প্রস্তাবিত সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসার লক্ষণ দেখাননি। যদিও ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী ইউনিয়নগুলোর দাবি, তাঁরা প্রেসিডেন্টকে দেখাতে চান যে সরকার যা করছে, যেভাবে শ্রম আইনকে দুর্বল করছে, দেশের মানুষ তার দিকে নজর রাখছে।

সোমবারের মে দিবসে আরও বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে ব্রাজিলে।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here