জ্বলছে আমাজন, অবশেষে টনক নড়ল ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের

0

ওয়েবডেস্ক: আমাজনের পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, দেরিতে হলেও সেটা বুঝতে পেরেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। তাই এই আগুনকে আটকানোর জন্য এ বার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার বলসোনারো বলেন, “এই বিধ্বংসী আগুন আটকানো আমাদের কর্তব্য।” পাশাপাশি অপরাধমূলক কাজকারবার বন্ধ করার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ তিনি করবেন বলে জানিয়েছেন।

কিছু দিন আগেই অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলেছিলেন বলসোনারো। প্রথমত তিনি মানতেই চাননি যে আমাজনের আগুন এতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মিডিয়া বেশি বাড়িয়ে দেখাচ্ছে সব কিছু। এমনকি এর পেছনে দেশের এনজিওদের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্টের এ হেন বক্তব্যের পরেই তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। ব্রাজিল তো বটেই দেশের বাইরেও বিস্তর সমালোচিত হন তিনি।

জেইর বলসোনারো।

পরিবেশবিদ এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ তো ছিলই। এর পাশাপাশি যোগ হয় সরকারি তথ্যও। সেই তথ্যে সাফ জানানো হয় যে গত বছরের তুলনায় আমাজনের আগুন এ বার বহু গুণ বেড়েছে। এর পরেই শুক্রবার দেশের মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট।

পরিবেশবিদ এবং আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমাজনের এই আগুন ‘ম্যান মেড।’ এই আগুন লাগানোর পেছনে হাত রয়েছে গবাদি পশুর ব্যবসায়ীদের। এমনকি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টেরও প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে বলে অভিযোগ বিভিন্ন মহলে। আমাজনের কৃষি এবং খজিন সম্পদ শুষে নেওয়ার যে নীতি ব্রাজিলের বর্তমান সরকারের রয়েছে, সেই মোতাবেকই কাজ করে চলছে ওই ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন দাউদাউ করে জ্বলছে আমাজনের জঙ্গল, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দায়ী করলেন এনজিওকে!

এই সপ্তাহান্তে ব্রাজিলের একাধিক শহরে প্রতিবাদ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছেন সাধারণ মানুষ। আমাজনের কী ক্ষতি হয়েছে সেটা তুলে ধরাই লক্ষ্য, সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কাছে দাবি জানানো হবে, এই আগুন নেভানোর জন্য এ বার নিষ্পত্তিমূলক কিছু পদক্ষেপ করুক প্রেসিডেন্ট। ‘আমাজন রক্ষা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ’ – এই নামেই প্রতিবাদে নামবে দেশের মানুষ।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই বলসানোর ওপরে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছিল। বেশি প্রতিবাদ আসছিল ইউরোপীয় দেশগুলি থেকে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের হয়ে নিন্দামূলক বার্তা দেন তাঁর মুখপাত্র। এই ঘটনাটিকে ‘আন্তর্জাতিক সংকট’ আখ্যা দিয়ে জি-৭’এর বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনার ডাক দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাকরঁ। তাঁর বার্তা, “আমাদের বাড়ি পুড়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর ফুসফুস, যেখান থেকে পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের কুড়ি শতাংশ তৈরি হয়, সেটা জ্বলছে।”

তবে প্রথমে আন্তর্জাতিক মহলের চাপকেও বিশেষ পাত্তা দেননি বলসোনারো। আমাজনকে তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে নিয়ে গিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মহলের নাক গলানো একদমই পছন্দ হয়নি তাঁর। তাঁর এ হেন মন্তব্যের জন্য তিনি জার্মানি এবং নরওয়েকে খেপিয়ে দিয়েছেন। আমাজন সংরক্ষণের জন্য সব থেকে বেশি আর্থিক অনুদান করে এই দুই দেশ। বলসোনারোর এই মন্তব্যের জেরে অন্তত কোটি কোটি ডলারের আর্থিক অনুদান আপাতত স্থগিত রেখেছে এই দুই দেশ।

আরও পড়ুন আবুধাবি পৌঁছলেন মোদী, পাবেন আমিরশাহির সর্বোচ্চ সম্মান

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের এ হেন কথাবার্তা তাঁর দক্ষিণপন্থী দলের সমর্থকদের বাহবা কুড়িয়েছে তো বটেই, কিন্তু সেই সঙ্গে চিন্তা বাড়িয়েছে দেশের বিরোধী এবং সাধারণ নাগরিকদের। এমনিতে গত জানুয়ারিতে ব্রাজিলের মসনদে বসার পর পরিবেশ নিয়ে নানা রকম নেতিবাচক কাজ করে চলেছেন বলসোনারো, এমনই অভিযোগ ব্রাজিলবাসীর। পরিবেশ রক্ষার জন্য বরাদ্দ বাজেট তিনি কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে আমাজনকে রক্ষা করতে তিনি কতটা সদর্থক ভূমিকা পালন করবেন, সে নিয়ে চিন্তা থেকে যায়।

তাই যতক্ষণ না নিজের দেওয়া কথামতো আমাজনে সেনা পাঠাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট, ততক্ষণ ব্রাজিলবাসী সন্দিহান। যদিও এরই মধ্যে আকাশপথে আমাজনের আগুন নেভানোর জন্য বিশেষ বিমান ওড়াচ্ছে বোলিভিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here