বার্সেলোনা :  অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সংকটে স্পেন। গত কয়েক দশকে কখনও এত বড়ো সংকট তৈরি হয়নি। মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার মধ্যে বিভাজন আজ যেন আরও স্পষ্ট। স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হল কাতালোনিয়া অঞ্চলে। আর সেই গণভোট বন্ধ করতে পুলিশি তৎপরতায় আহত হলেন শ’ চারেক মানুষ। স্পেনের সাংবিধানিক আদালত এই গণভোট স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় এবং দেশের কেন্দ্রীয় সরকার একে বেআইনি ঘোষণা করে।

তবু স্বাধীনতার দাবিতে গণভোটে যোগ দিতে বৃষ্টি এবং পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে রবিবার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সামনে জড়ো হন কাতালানরা।  গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্পেন থেকে আলাদা হয়ে যাবে কাতালোনিয়া। এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাতালান নেতারা।

রবিবার সকাল ৯টায় ভোট শুরু হয়। তার অনেক আগে থেকেই জনতা বার্সেলোনার ভোটকেন্দ্রগুলোতে হাজির হয়। বার্সেলোনা সহ কাতালোনিয়ার অন্যান্য শহরের স্কুল-সহ বিভিন্ন ভবনে মোট ২৩১৫টি ভোটকেন্দ্র করা হয়। ভোট নিশ্চিত করতে সপ্তাহান্তেই নির্বাচন কেন্দ্র দখল করে রেখেছিলেন কাতালোনিয়ার মানুষ। এঁদের মধ্যে আছেন বড়ো থেকে ছোটো সবাই। বাদ যায়নি শিশুরা। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে নির্বাচনকেন্দ্রের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বেশির ভাগ কেন্দ্রই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটাই বিক্ষোভকারীরা দখল করে রেখেছে।

মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পুলিশকে কোনো রকম জোর খাটাতে বারণ করা হয়েছে। কেবল নির্বাচনকেন্দ্র খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। সঙ্গে ব্যালট বাক্স আর পেপার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে গণভোট ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়। কয়েক বছর ধরে চলা আর্থিক সংকট, কঠিন পরিস্থিতি, উপযুক্ত আর্থিক লাভ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন কাতালোনিয়ার বাসিন্দারা। তার পরই স্বাধীনতার দাবিতে এই পথে হাঁটতে শুরু করেন তাঁরা।

সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবিকে ‘অসম্ভব’ ব্যাপার বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ভোটারদের মধ্যে এক জন ৭৩ বছরের জওয়াকুইম বসছ। বলেন, স্বাধীন দেশ কাতালোনিয়ার দাবিতে ভোট দিতে এসেছেন। কারণ কাতালোনিয়ার প্রতি বহু বছর ধরেই অন্যায় করে চলেছে স্পেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here