বিক্ষোভের ঠেলায় নরম হচ্ছেন শি জিনপিং, কঠোর কোভিডবিধি শিথিল করছে চিন

0
সাদা কাগজ হাতে প্রতিবাদ। ছবি সৌজন্য রয়টার্স

বেজিং: চিনের কঠোর শূন্য-কোভিড নীতির বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব বিক্ষোভ। মঙ্গলবার চিনের শি জিনপিং সরকার বলেছে, তারা করোনাভাইরাস লকডাউনের প্রভাব প্রশমিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিক্ষোভ নিয়ে গভীর উদ্বেগ

কঠোর লকডাউন নিয়মের বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরে সাংহাই এবং বেজিং-সহ বেশ কয়েকটি চিনা শহর বিক্ষোভে উত্তাল। জিনপিংয়ের পদত্যাগের দাবিও উঠছে। বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় পুলিশ তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। এমনকী বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের বাড়িতেও পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ। তা দূর করার চেষ্টা করে, চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শূন্য-কোভিড নীতি সামঞ্জস্য করছে চিন। তাঁর কথায়, “আমরা জনগণের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য বিজ্ঞান-ভিত্তিক সর্বাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালিয়ে যাব। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোভিডের প্রভাবকে কমিয়ে আনব”।

একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, চীন কার্যকরভাবে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ করবে এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

কী কারণে প্রতিবাদ

গোটা বিশ্বজুড়ে কোভিড নিয়ে কড়াকড়ির রাশ আলগা হলেও চিনে কঠোর লকডাউন, দীর্ঘ কোয়ারেন্টাইন এবং গণপরীক্ষার বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্রমেই ক্ষোভ ছড়াচ্ছে বলে খবর। এখনও নিজের জিরো-কোভিড নীতিতে আটকে রয়েছে চিন। যেখানে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে। মিডিয়া রিপোর্টে প্রকাশ, লকডাউন এবং দীর্ঘ কোয়ারেন্টাইনের ফলে চিনা নাগরিকদের মনে হতাশা দেখা দিয়েছে।

এএফপি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে চিনের নানা প্রান্তে মানুষ লকডাউন ভেঙে রাস্তা নেমে প্রতিবাদ দেখান। এক দিকে যখন প্রতিবাদে নেমেছেন সাধারণ মানুষ, অন্য দিকে রাস্তায় দেখা যাচ্ছে পড়ুয়াদেরও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেই ছবি। সেখানে দেখা যাচ্ছে চিনের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাস্তায় এই ধরনের প্রতিবাদ আন্দোলন হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত একদশকে এমন বিক্ষোভ দেখেনি চিন। শি জিনপিং ক্ষমতার আসার পর থেকে তো নয়ই।

বিক্ষোভ দমাতে

বিক্ষোভের পরে শূন্য-কোভিড নীতি পুনর্বিবেচনা করবেন কিনা জানতে চাইলে, জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের (এনএইচসি) মুখপাত্র মাই ফেং জানান, সমাজ এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব কমাতে নীতিটি নরম করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। যে সব জায়গায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলো ব্যারিকেড দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের কয়েকশো পড়ুয়া সাদা কাগজ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। এই ধরনের বিক্ষোভ চিনা সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের নিজের নিজের শহরে চলে যেতে বলা হয়েছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন