সিচুয়ান (চিন) : চিনা প্রত্নতাত্ত্বিকরা ৩০০ বছরের প্রাচীন ধনসম্পত্তি উদ্ধার করলেন। সিয়াচেন অঞ্চলের মিঞ্জিয়াং নদী আর তার শাখা নদী জিনজিয়াং-এর গর্ভে রয়েছে এই বিপুল সম্পদ। সোমবার সিচুয়ান প্রভিনশিয়াল কালচারাল রেলিকস অ্যান্ড আর্কিওলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর গাও দালুন জানান, প্রায় হাজার খানেক সোনা-রুপো-ব্রোঞ্জের জিনিস পাওয়া গেছে দক্ষিণপূর্ব সিচুয়ান প্রদেশের এই নদীগর্ভ থেকে। তার মধ্যে রয়েছে এই সব ধাতুর গয়না, মুদ্রা, লোহার তরোয়াল, ছুরি, বর্শা আরও অনেক কিছুই। তা ছাড়া রয়েছে সোনা-রুপোর বাসনপত্র। এই সব বাসনপত্রের সূক্ষ্ম কাজ এখনও খুবই স্পষ্ট ও সুন্দর।

এই বিপুল ধনসম্পত্তি পাওয়া গেছে সিয়াচেনের রাজধানী ছেংদু থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানাচ্ছেন, এই ধনসম্পত্তি ১৬৪৬ সালের। এই সময়ের কৃষক বিদ্রোহের এক উঠতি নেতা ঝাং জিয়াংঝং পরাজিত হন মিং রাজাদের কাছে। তিনি সেই সময় ১০০০টি নৌকোয় করে প্রচুর পরিমাণ সম্পত্তি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পালানোর পথে রাজার সৈনিকের সঙ্গে লড়াই শুরু হয়। সেই সময়ই নৌকাডুবি হয়, আর এই সম্পদ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। 

প্রত্নতাত্ত্বিক ওয়াং ওয়েই জানান, কোথায় যুদ্ধ হয়েছিল সেই সংক্রান্ত ইতিহাস প্রত্যক্ষ তথ্যপ্রমাণ এই সব কিছুই এই প্রাচীন সম্পদ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিল। এই সব খুঁজে পাওয়ার জন্য সিচুয়ান সরকার একটি তল্লাসি অভিযান চালায় জানুয়ারি মাসে। সেই অভিযানে দিনরাত পাম্প চালিয়ে সব জল তুলে ফেলা হয়েছিল। সেই সময় শুখা মরসুমও চলছিল এখানে। এর পর নদীর নীচে মাটি দেখা দিতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রায় ৫ মিটার নীচে অবধি মাটি খুঁড়ে ফেলেন। তার পর খোঁজ মেলে এই ধ্বংসাবশেষের। 

পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক লি বকুয়ান জানান, এই সবই কলা, ইতিহাস আর বিজ্ঞানের পড়াশোনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। মিং রাজবংশের রাজত্বকালের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক অবস্থা সম্বন্ধে জানতে খুবই সাহায্য করবে এই আবিষ্কার। প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানান, এই খননকাজ চলবে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। তাঁরা আশা করছেন এর মধ্যে আরও অনেক কিছুই এখান থেকে পাওয়া যাবে। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here