এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে সাম্প্রতিক কালে নজর বাড়িয়েছে মার্কিন বিদেশনীতি। বৃহস্পতিবারই শেষ হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এই প্রথম লাওসে পা রেখেছেন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন বিদেশনীতির এই নয়া চেহারাকে  শুক্রবার তীব্র আক্রমণ করা হল চিনের দুই সরকারি গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস ও চায়না ডেইলিতে। যদিও বারাক ওবামা সম্পর্কে কিছুটা নরম মনোভাবই দেখানো হয়েছে দুই পত্রিকার সম্পাদকীয়তে।

মার্কিন বিদেশনীতিতে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ওবামাকে কৃতিত্ব দেওয়া হলেও চায়না ডেইলির সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “ওবামা যেহেতু আর বেশিদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন না, তাই তিনি যা করতে চাইছেন, সেটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না। তিনি যা চেয়েছিলেন সেটা যে হয়নি, তার কারণটা ভাবনায় লুকিয়ে নেই, রয়েছে ভাবনাটা কার্যকর করতে না পারার মধ্যে”।

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, এশিয়ার দেশগুলির বাস্তব অবস্থার সঙ্গী হওয়ার বদলে আমেরিকা এই অঞ্চলে পেশি প্রদর্শন করে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করতে ফিরে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে যে টেনশন এই অঞ্চলে তৈরি হয়েছে, তা আমেরিকার স্বার্থের বিপরীত ফল দিয়েছে। এশিয়ার দেশগুলি সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এক সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে চলতে চায়। এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আরও সংহত করার মানসিকতা নিয়ে আমেরিকা যদি না চলে, তাহলে সেটা তার মৌলিক স্বার্থের বিপরীতে যাবে।

গ্লোবাল টাইমস-এর সম্পাদকীয়র ভাষা অবশ্য কনেক বেশি কড়া। সেখানে বলা হয়েছে, “এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারসাম্যের পুনর্বিন্যাসের অর্থ মার্কিন নৌবাহিনীর ৫০ শতাংশকে এশিয়ায় নিয়োগ করা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং স্মার্ট কূটনীতি, যারা লক্ষ্য চিনকে অন্যান্য দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা”।

সম্পাদকীয়তে ওবামাকে ‘ততটা চরমপন্থী নয়’ বলে তকমা দেওয়া হলেও ওয়াশিংটন ও বেজিং-এর সম্পর্কের ভবিষ্যৎ খুব একটা উজ্জ্বল বলে মনে করা হয়নি। যদিও গ্লোবাল টাইমস মনে করে, এর ফলে চিন আরও পরিণত রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here