ওয়েবডেস্ক: ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে দোকানপাট যেমন সাজানো থাকে, যেমন কেনাকাটা চলে, সে সবই থাকবে। গির্জায় গির্জায় যেমন ক্রিসমাস সার্ভিস দেওয়া হয়, তাও হবে। কিন্তু নাচ-গান-হুল্লোড়-অনুষ্ঠানে যে ভাবে প্রতিবছর ক্রিসমাস উদ্‌যাপন করা হয়, তা আর হবে না। জানিয়ে দিলেন ইজরায়েলের নাজারেথ সিটির মেয়র আলি সালাম।

বাইবেল অনুযায়ী এই নাজারেথ সিটিতেই জন্মেছিলেন যিশুর মা মেরি। এই শহরেই ছোটো থেকে বড়ো হয়েছিলেন যিশুখ্রিষ্ট। তাই পৃথিবীর ক্রিসমাস উদ্‌যাপনের প্রাণকেন্দ্রগুলির অন্যতম এই শহর। তাই এই শহরে ক্রিসমাস পালন না করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ধাক্কা খেয়েছে দুনিয়া জোড়া খ্রিস্টান সমাজ।

কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত?

বহুদিনের মার্কিন নীতি পরিবর্তন করে সম্প্রতি জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন নাজারেথ সিটির মেয়র। নাজারেথ ইজরায়েলের সবচেয়ে বড়ো আরবীয় শহর। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই শহরে খ্রিস্টান ও মুসলিম মিলিয়ে ৭৬,০০০ মানুষ থাকেন।

জেরুজালেম সংক্রান্ত ট্রাম্পের ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই যিশুর জন্মভূমি বেথেলহেমের (প্যালেস্তাইনের অন্তর্গত) অধিকাংশ ক্রিসমাস-আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়।

জেরুজালেম শহরটি খ্রিস্টান, ইহুদি, মুসলমান সকলের কাছেই পবিত্র শহর। ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন বিতর্কের ক্ষেত্রে এই শহরটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরই ইজরায়েল জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী বলে ঘোষণা করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল ও প্যালেস্তাইন এই দাবি মানতে নারাজ। প্যালেস্তাইনিরা ভবিষ্যত প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চায়জেরুজালেমকে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here