জঞ্জাল থেকে বই কুড়িয়ে এনে লাইব্রেরি গড়ে ফেলেছেন কোলোম্বিয়ার সাফাইকারী আলবার্তো

0
698

বোগোতা: কারোর কাছে ফেলনা। কারোর আবার বেঁচে থাকার সম্বল। জঞ্জাল সাফাই করতে গিয়েই বছর কুড়ি আগে আলবার্তোর হাতে আসে একটা বিখ্যাত উপন্যাস ‘আন্না ক্যারেনিনা’। তলস্তয়ের কালজয়ী উপন্যাস বদলে দিয়েছে কোলোম্বিয়ার খোসে আলবার্তো গুতিয়ারেজের জীবনটা। না, রাতারাতি তাঁর বেঁচে থাকা হয়ে ওঠেনি বিলাসবহুল। শেষ দু’দশকে আস্তাকুঁড় পরিষ্কার করেই যা রোজগার। তবে জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পালটেছে আমূল। নিজের বাড়িতেই কুড়ি হাজার বই-এর এক পাঠাগার তৈরি করেছেন গুতিয়ারেজ দম্পতি।

“যখন বুঝতে পারলাম, আশেপাশের মানুষ বই ফেলে দিতে শুরু করেছে, আমি সেগুলো ঘরে নিয়ে আসতাম।” শুরুটা হয়েছিল এ ভাবে। আর এখন যে সব পরিবার তাদের সন্তানদের জন্য বই কিনতে পারেন না, তাঁদের নিজের সংগ্রহের বই দিয়ে দেন আলবার্তো। রাজধানী বোগোতার দারিদ্র-অধ্যুষিত অঞ্চলে, কিংবা আশেপাশে লাইব্রেরি নেই, এমন অঞ্চলে বই-এর জোগান দেয় গুতিয়ারেজ দম্পতির এই অমুল্য সম্ভার। ‘বই-এর সম্রাট’ হিসেবেই স্থানীয় মানুষের কাছে বেশি জনপ্রিয় খোসে। আর সম্রাট নিজে ঠিক কী ভাবেন? “অন্যদের যত বই পড়তে দিই, তার থেকে অনেক বেশি বই আমার কাছে চলে আসে”। আজকাল নাকি বহু মানুষ স্বেচ্ছায় আলবার্তোর পাঠাগারে বই দান করছেন। কালো অক্ষরের যে বিপুল ক্ষমতা, তার সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে মানুষের, এটাই গুতিয়ারেজের আনন্দ। এত বই রাখার জায়গাই নেই। নতুন বই আসায় শিশুদের বই পড়ার আসরে সাময়িক ভাটা পড়েছে। খুব শিগগির অন্য কোনো ব্যবস্থা নিশ্চয়ই হবে।

রেভেলেউশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কোলোম্বিয়া ওরফে ফার্ক-এর সৈন্যরা অস্ত্র ছেড়ে ফিরতে চাইছে জীবনের মূল ধারায়। এদের অনেকেই যোগাযোগ করছেন খোসে আর তাঁর স্ত্রী মেরির সঙ্গে। পড়াশোনা শিখে চাকরি করতে চাইছে ওরা। আর খোসে নিজে? মায়ের হাত ধরে সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল কচি বয়সেই, কিন্তু অভাব অনটনের চাপে জীবনযুদ্ধে নেমে পড়তে বাধ্য হয়েছিলেন স্কুলের গণ্ডি পার করার আগেই। সামনেই আবার সেই গণ্ডি পেরোনোর পরীক্ষা। এতগুলো মানুষের জীবন বদলে দিতে পারা আলবার্তো নিশ্চয়ই উতরে যাবেন এই পরীক্ষাতেও।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here