christmas

ওয়েবডেস্ক: উঁহু! ঠিক নরমাংসভোজী বলা যাবে না তাঁকে!

সত্যি বলতে কী, ব্রিটেনের ডেবরা পারসনের এই মাতৃপ্রীতির ব্যাপারটা একটু আলাদা! সরাসরি মায়ের মাংস ভক্ষণ করছেন না তিনি। মায়ের চিতাভস্ম খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে চলতি বছরের মে মাস থেকে চলছে ভোজনপর্ব।

সংবাদমাধ্যমকে নিজেই জানিয়েছেন ডেবরা, তাঁর মা ডোরিয়ান মে মাসে চলে যান পৃথিবী ছেড়ে। এক বিমানযাত্রার সময় হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় তাঁর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন তাঁকে।

আরও পড়ুন: পৃথিবীতে এই রেস্তোরাঁই একমাত্র পরিবেশন করে মানুষের মাংস!

সেই ঘটনায় খুবই ভেঙে পড়েছিলেন ডেবরা। দুই বোন তাঁকে সান্ত্বনা দিতে পারেননি কোনো ভাবেই। তাঁরা জানিয়েছেন, মা চলে যাওয়ার পর ডেবরার কাছে বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে গিয়েছিল। মায়ের চিতাভস্ম তাই সব সময় একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নিজের কাছে রাখতেন তিনি। যেখানে যেতেন, সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন প্যাকেটটা। ঘুমোতেও যেতেন সেই প্যাকেটটা সঙ্গে নিয়ে।

christmas
মায়ের চিতাভস্ম খাচ্ছেন ডেবরা

“এক রাতে আচমকাই আমার ঘুম ভেঙে যায়। মন‌টা কু গাইতে প্যাকেটটা খুলে দেখি চিতাভস্ম ঠিক আছে কি না! তার পর কান্না সামলাতে না পেরে মুখে হাত চাপা দিই! তখনই আঙুলে লেগে থাকা মায়ের চিতাভস্ম প্রথম আমার মুখে যায়। অনেকেই শুনলে অবাক হবেন, তার পর আমি কিছুটা স্বস্তি বোধ করি! মনে হয়, এ ভাবেই তো মাকে ধরে রাখতে পারি নিজের কাছে”, অকপট স্বীকারোক্তি তাঁর!

সেই শুরু! তার পর ৯ মাস ধরে মায়ের সেই চিতাভস্ম খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে একটু একটু করে খেয়ে আসছেন তিনি। যদিও তাতে শোক প্রশমিত হয়নি। এবার বড়োদিনের উৎসবের আগে সেই শোক যেন দ্বিগুন আকার ধারণ করল তাঁর জীবনে। সেই জন্যই ঠিক করেছেন ডেবরা, বড়োদিনের রোস্ট আর পুডিংয়ে মিশিয়ে দেবেন মায়ের চিতাভস্ম!

“জানি, কেউ আমার এই কাজ সমর্থন করবেন না। কিন্তু এটাই আমার ভালো থাকার একমাত্র উপায়। একমাত্র এই উপায়েই মাকে নিজের শরীরে ধারণ করতে পারব আমি। এই ভাবেই মা শ্বাস নিতে পারবেন এই পৃথিবীর বাতাসে, আমার শরীরের মধ্যে দিয়ে”, বলছেন ডেবরা!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here