Iran protest

তেহেরান : বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। প্রতিদিন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আঁচ ক্রমশ বেড়ে চলছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এই বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ১০। তবে কোথায় কী ভাবে মৃত্যু হয়েছে তা সরকারি সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে না। সিএনএন দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ১২।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন জনগণের প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। তা সত্ত্বে বিক্ষোভ কমার কোনো লক্ষণ নেই। এ পর্যন্ত ৪০০জনকে গ্রেফাতর করা হয়েছে। বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়া রুখতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে টেলিগ্রাম এবং ইনস্টাগ্রাম। ইরানে এই দুটি সোশ্যাল মিডিয়া বেশ জনপ্রিয়। এর মধ্যে ৪কোটিরও বেশি মানুষ টেলিগ্রামে সংক্রিয়।

কী কারণে বিক্ষোভ?

গত বৃহস্পতিবার মাশাদ শহরে থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল মূল্যবৃদ্ধি। সরকারের আর্থিক নীতির ফলে অত্যাধিক জীবনযাপনের খরচ এই বিক্ষোভে আগুন দিয়েছে। কিন্তু এখন তা পরিণত হয়েছে ধর্মীয় নেতা নিয়ন্ত্রিত ইরানি সরকারকে উৎখাতের দাবিতে। শ্লোগান উঠছে ‘একনায়ক নিপাত যাক।’

রবিরার ইরানের খোরামাবাদ, যানজান ও আহভাজ শহরে একটি মিছিল বেরোয়। সেই মিছিল থেকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা খামেনির ছবি দেওয়া বিশাল ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া দেয়।

বিবিসি জানাচ্ছে, এই বিক্ষোভ তরুণ-যুবকদের ছোট ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে থাকলেও ক্রমশ তা ছোট ছোট শহরে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে তা আরও ব্যাপক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ ইরানে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনারও দাবি করছেন। এর আগে ২০০৯ সালে ইরানে সংস্কারের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। তবে মনে করা হচ্ছে এই বিক্ষোভ তার চেয়েও বড়ো আকার ধারণ করছে। এর পরিণতি কোথায় দিয়ে ঠেকবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

বিক্ষোভকে মোকাবিলা করার জন্য বেশ সক্রিয় ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি। এই বিক্ষোভ কে শক্ত হাতে দমন করারই নীতি নিয়েছে আইআরজিসি।

আইআরজিসি কী?

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের অব্যবহিত পরেই এই আইআরজিসি বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল। এই বাহিনীর প্রধান দায়িত্বই হল ইরানের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখা এবং সে দেশের ইসলামিক ‘সিস্টেম’ বা সমাজব্যবস্থাকে রক্ষা করা। তার পর থেকে এই বাহিনী ক্রমশ ইরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষিতে একটি বিরাট শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এদের নিজস্ব পদাতিক সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পর্যন্ত আছে।

আরও পড়ুন : ‘সন্ত্রাস দমনে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান’, ভারতে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতেই ট্রাম্পের বিস্ফোরক টুইট ?

এদিকে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে একাধিক টুইট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিস্থিতি দেখে ট্রাম্পকে ফোন করেন রুহানি। রাশিয়া জানিয়েছে, বিষয়টি ইরানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, এতে বাইরের কারো নাক গলানো উচিত নয়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন