ফাইল ছবি।

নিউইয়র্ক: উচ্চকক্ষ সিনেট দখলে রাখতে পারলেও, নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটেটিভ বা প্রতিনিধিসভায় রাশ আলগা হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষে চাপে পড়লেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার সকাল থেকে তার ফলাফল বেরোতে শুরু করেছে। এখনও ফলাফল পুরোপুরি না বেরোলেও ইঙ্গিত আসতে শুরু করে দিয়েছে।

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের ১০০টি মধ্যে ভোট হয় ৩৫টি আসনে। অন্য দিকে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের সব ক’টি অর্থাৎ ৪৩৫টিতেই ভোট হয়। এই ৩৫ আসনের ফল প্রকাশের পর গোটা সিনেটে রিপাবলিকানদের সদস্য সংখ্যা হয়েছে ৫১। অন্য দিকে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছে ৪৩টি আসন। উল্লেখযোগ্য ভাবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট ভাগ অনেকটাই বেশি। এক দিকে যখন ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা, তখন রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৪৩ শতাংশ ভোট।

আরও পড়ুন আজব কাণ্ড ঘটিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের মামলায় ফাঁসলেন বিজেপি প্রার্থী!

অন্য দিকে হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটেটিভ বা প্রতিনিধিসভা দখলে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এখনও পর্যন্ত ২০৮টি আসন পেয়েছে হিলারি ক্লিনটনদের দল। তবে প্রতিনিধিসভার নির্বাচনে একটি ঐতিহাসিক ঘটনাও ঘটে গিয়েছে। ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন দুই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইলহান ওইমার এবং রশিদা তলাইব। এই প্রথম কোনো মুসলিম মহিলার স্থান হল মার্কিন কংগ্রেসে।

প্রতিনিধিসভা দখল করার ফলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের প্রশাসনিক এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত পরিকল্পনাতেও বাধা দিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।

যদিও এই ফলে একদমই বিচলিত নন ট্রাম্প। ইতিমধ্যে একটি টুইট করে জানিয়েছেন, নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রয়োজন মনে করলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করারও পদক্ষেপ করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেট দখলে থাকলেও আগামী দু’ বছর ‘যা খুশি তা-ই করার সুযোগ’ ট্রাম্প পাবেন না, তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here