ওয়াশিংটন: শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সংঘাতই কি পৃথিবীকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে? অন্তত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাবার্তা শুনলে তা-ই মনে হয়। চিনও সেই রকম আশঙ্কা করছে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যে ভাবে পরমাণু ও বাল্যাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে ওদের সঙ্গে একটা বড়ো ধরনের বিরোধ বাঁধার আশঙ্কা রয়েছে। চিন বলেছে, কোরীয় পেনিনসুলার পরিস্থিতি ক্রমশই খারাপ হচ্ছে, হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি এই সংকট শান্তিপূর্ণ ভাবেই সমাধান করতে চান, সম্ভবত নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করার মাধ্যমে। কিন্তু সামরিক পথও বন্ধ রাখা হচ্ছে না। “শেষ পর্যন্ত হয়তো বড়ো, খুব বড়ো একটা সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে।”

উত্তর কোরিয়াকে বিশ্বের সব চেয়ে চ্যালেঞ্জ হিসাবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কূটনৈতিকভাবেই সমস্যার সমাধান করতে চাই। কিন্তু ব্যাপারটা খুব কঠিন।”

এ দিকে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং উই বলেছেন, কোরীয় পেনিনসুলার পরিস্থিতি ধাপে ধাপে খারাপ হচ্ছে, বলা যায় হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপুঞ্জে রাশিয়ার দূতের এক সঙ্গে এক বৈঠকে ওয়াং এই মন্তব্য করেন। উত্তর কোরিয়ার একমাত্র বড়ো বন্ধু চিন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়া যে ভাবে তার পরমাণু ও বাল্যাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে তাতে চিন ক্রমশই অস্বস্তিজনক অবস্থায় পড়ছে।

তবে ট্রাম্প চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং-এর খুব প্রশংসা করেন। তাঁকে “ভালো মানুষ’ বলে সম্বোধন করে ট্রাম্পের আবেদন, পিয়ংইয়ং-এর লাগাম টেনে ধরার জন্য চিন যেন আরও বেশি করে চেষ্টা করে। “আমি জানি উনি খুব চেষ্টা করছেন। আমি জানি, যতদূর সম্ভব উনি করতে চান। তবে আমার মনে হয়, উনি আরও কিছু করতে পারেন।”

আমেরিকার শক্তি প্রদর্শন

এ দিকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য আমেরিকার যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস কার্ল ভিনসন তার লটবহর নিয়ে কোরীয় পেনিনসুলা থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে। এই যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ যোগ দেবে পরমাণু সাবমেরিন ইউএসএস মিশিগান-এর সঙ্গে। ইউএসএস মিশিগান গত মঙ্গলবারই দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ফিলিপাইন সমুদ্রে রয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় আঘাত হানতে হলে দু’ ঘণ্টার মধ্যে সে যথাস্থানে পৌঁছে যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here