খবরঅনলাইন ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্রবাদী সমর্থকদের হামলার ঘটনায় বিশ্ব জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সারা বিশ্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বুলি আওড়ানো ট্রাম্প নিজের দেশেই গণতন্ত্রকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি সর্বত্র।

অন্য দিকে, ২০ জানুয়ারির আগেই ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে দেশের মধ্যেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এই দাবিতে সরব।

আমেরিকার সব থেকে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই হামলার তীব্র নিন্দা করে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রের পাশে দাঁড়ায়। ফলে এই দেশে শান্তিপূর্ণ ভাবে ও নিয়ম অনুযায়ী ক্ষমতার হস্তান্তর হওয়াটা জরুরি।”

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “মানুষের ইচ্ছার ওপরে কখনোই জয়ী হতে পারে না হিংস্রতা। আমাদের পড়শি দেশে গণতন্ত্রের ওপরে এই হামলায় সকল কানাডাবাসী স্তম্ভিত। আমেরিকার গণতন্ত্রকে রক্ষা করতেই হবে।”

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, “মার্কিন গণতন্ত্রের শক্তিশালী ব্যবস্থার প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবেন।”

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মাইকেল বলেছেন, বাইডেনের কাছে শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। অন্য দিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফোন ডেয়ার লেন বলেন, তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষা করছেন।

উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ নেতাদের নিন্দায় শরিক হয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধা দেখাতে হবে।

হামলার নিন্দা করেছেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তিনি বলেন, এটি একটি বিরক্তিকর দৃশ্য। শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এ দিন সকালেই টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও

ট্রাম্পের সঙ্গ ছাড়ছেন ঘনিষ্ঠরা

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা ভবন বা ক্যাপিটল ভবনে বিদায়ী প্রেসিডেন্টের উগ্র সমর্থকদের হামলার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গ ছাড়তে শুরু করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। এ হামলার পর নিন্দার ঝড় উঠেছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবির–নির্বিশেষে।

হামলার ঠিক পরেই ট্রাম্পের সঙ্গ ছাড়েন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সারাহ ম্যাথিউস। তিনি বলেছেন, “আজ কংগ্রেসে হলে যা দেখলাম, তাতে আমি ভীষণ ভাবে বিরক্ত। আমাদের দেশে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর প্রয়োজন।”

যদিও বিদায়ী বার্তায় সারাহ বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনে যুক্ত থাকতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করি। এ সময় যে সব নীতি নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর জন্য আমি গর্বিত।”

সারাহর আগে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ এবং ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সচিব স্টেফানি গ্রিসহাম পদত্যাগ করেন। তবে তাঁর পদত্যাগের সঙ্গে ক্যাপিটল ভবনে হামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এই হামলার পর রিপাবলিকানদের অনেকেই সরব হয়েছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। নেব্রাস্কা থেকে রিপাবলিকান সেনেটর বেন সাসে বলেছেন, “এটা একটা নোংরা দিন। আমরা আমাদের শিশুদের কখনোই এই দিনের কথা বলতে চাইব না। কারণ এটা সত্য না। আমরা এমনটা নই।”

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তথা রিপাবলিকান নেতা জর্জ ডব্লিউ বুশও ট্রাম্পের নিন্দায় সরব হয়েছেন। উল্লেখ্য, নভেম্বরে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরেই বুশই ছিলেন প্রথম রিপাবলিকান নেতা যিনি এই ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা, হত ৪, নজিরবিহীন সংঘর্ষে উত্তাল আমেরিকা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন