ওয়েবডেস্ক: বাবাকে জড়িয়ে ধরে মৃত আঞ্জি বা ‘আমেরিকান আলানের’ ব্যাপারে দায়সারা প্রতিক্রিয়া দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যাঁর অভিবাসন নীতির জন্যই এই মর্মান্তিক পরিণতি ওই বাবা-মেয়ের হয়েছে বলে বলছে বিরোধীরা, সেই ট্রাম্প বলেন, গোটা ঘটনায় তিনি ব্যথিত।

ওই মর্মস্পর্শী ছবিটার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা ঘৃণা করি।” পাশাপাশি আঞ্জির বাবার ব্যাপারে ট্রাম্প বলেন, “ওই বাবাটি সম্ভবত খুব ভালো লোক ছিলেন।” যদিও এই ঘটনাতেও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের কাঠগড়ায় তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণ করতে বিরোধীরা রাজি না হওয়ার কারণেই অবৈধ অভিবাসীদের মৃত্যু হচ্ছে।

Loading videos...

অভিবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণের জন্য এর আগে সমালোচিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। অশালীন ভাষায় অভিবাসী প্রত্যাশীদের আক্রমণ করেছেন তিনি। মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে চাওয়া মানুষদের তিনি কখনো ‘পশু’, ‘ঠান্ডা মাথার অপরাধী’, ‘খারাপ মানুষ’ ইত্যাদি আখ্যা দিয়েছিলেন।

যে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এত শোরগোল, সেটি জানাজানি হয়েছে বুধবার। মেক্সিকোর এক দৈনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রিয়ো গ্রান্দে নদী পেরোতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এল সালভাদোরের বাসিন্দা অস্কার আলবের্তো মার্তিনেজ এবং তাঁর মেয়ে আঞ্জির। প্রথমে আঞ্জি তার বাবাকে সাঁতরে যেতে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে জলে। বাবা তাকে জড়িয়ে ধরেন, কিন্তু হঠাৎ ধেয়ে আসা স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাঁদের। জুলিয়া লু দুক নামে যে চিত্রগ্রাহক ছবিটি তুলেছেন, তিনিই গোটা ঘটনাটি লিখেছেন মেক্সিকোর দৈনিকে। চোখের সামনে স্বামী-মেয়েকে তলিয়ে যেতে দেখেন অস্কারের স্ত্রী তানিয়া।

মেক্সিকোয় দু’মাস ছিলেন তাঁরা। ৪৫ ডিগ্রির গরম শেষে আর সহ্য করতে না পেরে ওই নদী পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেন অস্কার। তাঁরা মেক্সিকোয় ‘মানবিক ভিসা’ পেয়েছিলেন বলে জানান তানিয়া। শুল্ক এবং সীমান্ত সুরক্ষা অফিসারেরা জানিয়েছেন, মেক্সিকো সীমান্ত বরাবর বন্দরের প্রবেশপথগুলিতে শরণার্থীদের বিপুল ভিড় হচ্ছে বহু দিন ধরেই। 

আরও পড়ুন জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে জাপানে পা রাখলেন মোদী

এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘আমেরিকান আলান’ তকমা পেয়েছে মৃত আঞ্জি। ২০১৫ সালে ঠিক এই পরিণতিই হয়েছিল সিরীয় শিশু, আলান কুর্দির। আশ্রয়ের খোঁজে এসে জীবন থেমে গিয়েছিল তারও। সেই ছবি ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। রাষ্ট্রপুঞ্জ থেকে শুরু করে ইউরোপীয় নেতারা অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিলেন।

শরণার্থী এই বাবা-মেয়ের মৃত্যুতে মার্কিন রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিস টুইটে বলেছেন, ‘‘ভয়ংকর হিংসা থেকে বাঁচতে এই সব পরিবার পালিয়ে আসছে। তারা যখন আসছে, কী হচ্ছে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, যেখান থেকে এসেছো, ফিরে যাও। এটা অমানবিক। শিশুরা মারা যাচ্ছে। এই সব ঘটনায় আমাদের মানসিক তিক্ততা বাড়ছে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.