ওয়াশিংটন: একটি বাইবেল, যেটি তাঁর মা তাঁকে দিয়েছিলেন। অন্য বইটি ব্যবহার করেছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন। ১৮৬১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার সময়। এই দু’টি বই হাতে নিয়ে যখন ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট শপথ নিচ্ছিলেন, তখন প্রতিবাদের চিহ্ন হিসেবে সেখানে ছিলেন না ৬০ জন ডেমোক্র্যাট সেনেটর। যদিও হিলারি ক্লিন্টন ছিলেন। তিনি শুনলেন, ট্রাম্প বলছেন, “আজকের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে কারণ এই দিনটিতেই মার্কিন জনগণ তাঁদের দেশের শাসন ক্ষমতা ফিরে পেল”।

বৃহস্পতিবারই বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে চিনা শিল্পপতি জ্যাক মা বলেছিলেন, মার্কিনিদের চাকরি কেউ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে না। সে দেশের প্রশাসন যুদ্ধ করে টাকা নয়ছয় করার জন্যই দেশের মানুষের চাকরি হচ্ছে না। প্রচারের সময় থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও একটানা চিনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কি আশ্চর্য! এদিন এই মার্কিন ধনকুবেরের কথা যেন হুবহু মিলে গেল চিনা ধনকুবেরের সঙ্গে, যখন ট্রাম্প বললেন, “আমরা অন্যদের সীমান্ত পাহারা দিয়েছি, নিজেদেরটা রক্ষা করতে পারিনি”। “বহুদিন ধরে আমার অন্য দেশের শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছি, নিজেদের শিল্পের মূল্যে”।

শুধু এই কথাগুলিই নয়, মার্কিন বিদেশনীতি পরিবর্তনের যেসব ইঙ্গিত ট্রাম্প আগে বহুবার দিয়েছেন, তার প্রতিধ্বনি হল শুক্রবারও। বললেন, “আজ থেকে একটাই নীতি হবে, আগে আমেরিকা! আগে আমেরিকা….আমরা আমাদের সীমান্ত, আমাদের চাকরি, আমাদের স্বপ্নকে ফেরত নিয়ে আসব।…বাণিজ্য, রাজস্ব, বিদেশনীতি, অভিবাসননীতি, সব ক্ষেত্রেই মার্কিন পরিবার ও মার্কিন শ্রমিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংরক্ষণই বয়ে আনবে সমৃদ্ধি ও শক্তি”।

মার্কিন জনতা উদ্দেশে ট্রাম্পের আশ্বাস, “আপনাদের আর কখনো অবজ্ঞা করা হবে না”।

অন্য দেশের সীমান্ত পাহারায় ট্রাম্পের আগ্রহ না থাকলেও, ইসলামি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবশ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম ভাষণেই সুর চড়ালেন এই প্রাক্তন রিয়ালিটি টিভি স্টার। বললেন, ইসলামি সন্ত্রাসবাদকে দুনিয়া থেকে চিরতরে নির্মূল করবেন তিনি। কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াইতে রাশিয়াকে পাশে পেলে ভালই হয়। সব মিলিয়ে আগামী মার্কিন বিদেশনীতির একটা ছাঁচ চোখের সামনে ভাসতে শুরু করল বটে।

কিন্তু তারপরই ট্রাম্প বললেন, “আমেরিকা আবার জিততে শুরু করবে। এমন জয় সে অর্জন করবে, যা আগে কখনো সে অর্জন করতে পারেনি”।

কিন্তু জয় তো কখনো প্রতিপক্ষের পরাজয় ছাড়া আসে না। কে সেই প্রতিপক্ষ আমেরিকার, যাকে চিনতে ও চেনাতে পেরে প্রেসিডেন্টের মসনদে বসলেন এই মার্কিন ধনকুবের ? সে কি শুধুই ইসলামি সন্ত্রাসবাদ ? কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে চিন সম্পর্কেও সুর নরম করেছিলেন ট্রাম্প। অতএব কীসের মূল্যে মার্কিনিদের চাকরি ফেরত আনেন ট্রাম্প, তা দেখার অপেক্ষায় রইল গোটা বিশ্ব। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here