ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চাঞ্চল্যকর মোড়!

0

তেহরান: ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি এমনিতেই রয়েছে। এ বার সেই পরিস্থিতিতেই এল একটি চাঞ্চল্যকর মোড়। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-এর ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করল ইরান। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে ইরানের তরফে।

ইরানের গুপ্তচর মন্ত্রকের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন দফতরে ঢুকে গুপ্তচরবৃত্তি করেছে। দফতরগুলির মধ্যে রয়েছে অর্থ দফতর, পরমাণু দফতর, সামরিক দফতর এবং সাইবার দফতরও। এখনও পর্যন্ত ইরানের এই দাবির প্রত্যুত্তরে কোনো পালটা দাবি করেনি আমেরিকা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার, ইরানের একটি ড্রোনকে গুলি করে নামানোর দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সেই দাবি অস্বীকার করে ইরান। তার পরের দিনই একটি ব্রিটিশ জাহাজকে আটক করার দাবি করে ইরান। সেই জাহাজে ১৮ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। সব ব্যাপারই যে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

উল্লেখ্য, ইরানের তেল দফতরের ওপরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরেই উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দানা বাঁধতে শুরু করে। গত মে এবং জুন মাসে ওমান সাগরে দু’টি তেলের ট্যাংকারে হামলা হয়। এই ঘটনায় ইরানকে দোষ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও তা অস্বীকার করেছে ইরান।

আরও পড়ুন আরও ঘনাল যুদ্ধের মেঘ, ইরানের ড্রোনকে গুলি করে নামানোর দাবি ট্রাম্পের

এর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায় যখন ইরান দাবি করে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি ড্রোনকে গুলি করে নামিয়েছে তারা। তেহরানের দাবি ছিল ইরানের আকাশসীমা লংঘন করেছিল ওই ড্রোনটি। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বার্তা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করে ইরান।

ইরানের এই ঘটনার প্রতিবাদ করে তৎক্ষণাৎ সে দেশের ওপরে আক্রমণের নির্দেশ দিয়ে দেন ট্রাম্প। কিন্তু হামলার মাত্র আধ ঘণ্টা আগে সে নির্দেশ বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে তিনি জানান, ইরানের যে জায়গায় আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেখানে অন্তত দেড়শো নিরীহ মানুষের প্রাণ যেত। সে কারণেই এই পদক্ষেপ করেন ট্রাম্প। এখন দেখার নতুন এই পরিস্থিতি আবার মার্কিন-ইরান সম্পর্ককে কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here