জয়ন্ত ভট্টাচার্য

আমেরিকার উত্তর-পশ্চিমের জমজমাট শহর সিয়াটেল। অনেক বহুজাতিক সংস্থার উপস্থিতি সিয়াটেলকে প্রযুক্তির শহর হিসেবেও বিশেষ পরিচিতি দেয়। স্বাভাবিক ভাবে বহুকাল ধরেই বাঙালিদের এখানে আনাগোনা ও বসবাস। কালের নিয়মে মনোরম গ্রীষ্মের পর যখন আগাম শীতের হিমেল হাওয়া বইতে থাকে, বাঙালির মন আনচান করে দুর্গাপুজোর দিনগুলোর জন্য। প্রবাসে নিজের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে বেঁচে থাকতে কেই বা না চায় আর সেই ইচ্ছের বশেই, কয়েকটি পরিবারকে একত্র করে মৈত্রী অ্যাসোসিয়েশনের সৃষ্টি গত ডিসেম্বরে।

অচিরেই পাঁচ থেকে দশ পরিবার, সেই থেকে সতেরো, আশানুরূপ বৃদ্ধি হয়েছে মৈত্রী পরিবারের। সোশ্যাল মিডিয়া আর জনমুখে প্রচার একটা বড়ো ভূমিকা নিয়েছে মৈত্রীর বিস্তারে। বিজ্ঞাপন বা স্টল ভিত্তিক উপার্জন নয়, মৈত্রীর সদস্যদের চাঁদা ও দান-ই তাদের কর্মকাণ্ডের মূল পুঁজি।

নববর্ষের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আর পিকনিকের মধ্যে দিয়ে জনসংযোগ বাড়িয়ে, মৈত্রী প্রথম বছরে প্রাধান্য দিয়েছে তাদের প্রথম শারোদোৎসবে, যা উদ্‌যাপন হতে চলেছে এ বার মেপেল ভ্যালি কমিউনিটি সেন্টারে, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত।

কুমোর টুলির পথিতযশা শিল্পী মিন্টু পালের তৈরি প্রতিমা পৌঁছয় সিয়াটেলে। বলাইবাহুল্য এক বহুআকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আর তখন থেকেই মৈত্রী-তে সাজসাজ রব। বোধন থেকে বিসর্জনে থাকছে সাবেকি আচার। পুজোর মাঝে রাখা হয়েছে জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শঙ্খ ধ্বনি প্রতিযোগিতা, ধুনুচি নাচ ও সিঁদুর খেলা। থাকছে সর্বসাধারণের জন্য হিন্দি ও বাংলায় অন্তক্ষরী, বিজয়া-তে ঢোল ও তাসার পরিবেশনা।

বাঙালি রসনার তৃপ্তির জন্য থাকছে নিরামিষ, আমিষ মিলিয়ে লোভনীয় সমাহার, যাতে বাদ নেই বিরিয়ানি, চিকেন চাপও। ঘরে ঘরে ব্যস্ততা মণ্ডপ সজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ঘিরে। কচিকাঁচাদেরও উৎসাহের সীমা নেই পুজো নিয়ে।

সদস্যদের কথায়, মৈত্রীর প্রতিশ্রুতির সরল ব্যাখ্যা, “এ পুজো তোমার পুজো, আমার পুজো, সিয়াটলের সর্বজনীন পুজো”।

আর সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই, তাঁদের দুর্গাপুজোয় কোনো প্রবেশ মূল্য নেই। এখানেই মৈত্রীর পুজো তাকে প্রবাসের অধিকাংশ পুজোর থেকে আলাদা করে দেয়। শুধু সদস্যরা নয়, সদস্যের বাইরেও অনেকে অংশগ্রহণ করছেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যা সাধারণত দেখা যায় না প্রবাসের পুজোয়। কোভিডবিধি মেনে সর্বসাধারণকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে, থাকছে তাঁদের জন্য ভোগ বিতরণ। আশা, এই পুজো শুধু বাঙালির না, অবাঙালিদেরকেও আনন্দ দেবে, দেবে বঙ্গ সংস্কৃতির উষ্ণতা। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, মৈত্রী বৃহত্তর সিয়াটেলে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে সর্বজনীন পুজোর এক অনন্য গন্তব্যস্থল হিসেবে।

আরও পড়়ুন: ২ দিনের দুর্গাপুজোয় মাতেন টেক্সাসের বাঙালিরা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন