মানুষ কাজ করে পেটের জন্য। অর্থাৎ রোজগার করার মূল লক্ষ্য ভালো মন্দ খাওয়া। আর ভালোমন্দ খেলে মোটা হওয়াটা কোনও ব্যাপারই নয়। এমন নীতিতে অনেকেই বিশ্বাসী।

কিন্তু পেশার বিড়ম্বনা বলেও তো একটা ব্যাপার আছে। সব পেশারই নিজস্ব একটা যোগ্যতার মাপকাঠি থাকে। সেই মাপকাঠির মধ্যে থাকতে পারলেই ভালো। তার বাইরে গেলে কাজ করাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। এমনই বিড়ম্বনায় পড়লেন মিশরের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সম্প্রচার সংস্থার উপস্থাপিকারা। ‘ইজিপশিয়ান রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন ইউনিয়ন’ (ইআরটিইউ) তাদের আট জন টিভি উপস্থাপিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করল। তাদের বক্তব্য, টেলিভিশনের পর্দায় চেহারা দেখানোর পক্ষে এই উপস্থাপিকাদের ওজন বেশি। এক মাসের মধ্যে খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণে এনে ওজন কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই উপস্থাপিকাদের।  অন্য দিকে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া এক জন তাঁর সাম্প্রতিক পরিবেশনা দেখে তিনি পর্দার জন্য অনুপযুক্ত কিনা তা-ও জানাতে অনুরোধ করেছেন সোশাল সাইটের মাধ্যমে।

মিশরের ওই টেলিভিশন সম্প্রচার সংস্থা ইআরটিইউ-এর পরিচালিকা সাফা হেগাজি নিজেও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের উপস্থাপিকা ছিলেন। তিনি ওই আট জনকে এই নির্দেশ দেওয়ায় স্বভাবতই বিস্মিত তাঁরা এবং প্রতিবাদে সরব। এঁদের মধ্যে খাদিজা খাত্তাব নামে এক জন তাঁর দর্শকদের মতামত চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে আবেদন করেছেন। আবেদন, সম্প্রতি প্রচারিত তাঁর উপস্থাপিত অনুষ্ঠানগুলি দেখে দর্শকরা যেন জানান তিনি পর্দার জন্য অযোগ্য কি না ? তিনি ‘মোটা’ কি না।

প্রশ্ন একটাই, মোটা বলে কি তাঁদের কাজের পারদর্শিতার কোনও গুরুত্ব নেই ?

অন্য দিকে এই সিদ্ধান্তের যাথার্থ্য নিয়ে সরব হয়েছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলিও। তারা মনে করে, এই সিদ্ধান্ত স্থূলাঙ্গীদের প্রতি অন্যায় ও হিংসার প্রকাশ। দেশের এক জন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ওয়াজিদ আবদুল মাজিদ মন্তব্য করেন, ওই সংস্থার উচিত চ্যানেলের উপস্থাপনার উন্নতির দিকে নজর দেওয়া, উপস্থাপকের দিকে নয়। বহু মানুষ বরখাস্তদের পক্ষে কথা বলছেন। তাঁদের বক্তব্য, স্থূলকায় মানুষদের এই ভাবে হেনস্থা করা যুক্তিহীন।

বিষয়টি মিশরের পার্লামেন্টেও উঠেছে। উপস্থাপিকা খাদিজা খাত্তাব অনেক এম পি-র সমর্থন পেয়েছেন। তাঁর হয়ে এক জন এমপি বলেছেন, সামান্য মোটা হলেও খাবাজা খাত্তাব  ভাষা ব্যবহারে খুবই দক্ষ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here