এল সালভাদরে নবজাতক মৃত, ৩০ বছরের কারাবাস ১৯ বছরের ধর্ষিতা মায়ের

0
303

সান সালভাদর: ১৯ বছরের এক যুবতীকে ৩০ বছরের কারাবাসের শাস্তি দিল এল সালভাদরের একটা আদালত। অপরাধ, জন্মের সময়ই শিশুটা মারা গেছে। শুক্রবার ঘটনাটা জানাল এসিডিএটিইই তথা সিটিজেনস্‌ গ্রুপ ফর দ্য ডিক্রিমিনালাইজেশন অব অ্যাবরশন। এসিডিএটিইই হল গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে কাজ করা সে দেশের একটা সংগঠন।

এসিডিএটিইই জানিয়েছে, যুবতীর নাম ইভলিন বিয়াত্রিজ হার্নান্দেজ ক্রুজ। ধর্ষণের ফলে সে গর্ভবতী হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে কাউকে জানানোর সাহস করে উঠতে পারেনি সে আর তার পরিবার। কারণ তার পরিবারের সদস্যদের বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গত বছর এপ্রিল মাসে একটি শিশুর জন্ম দেয় ইভলিন। সেন্ট্রাল কাস্কাতলান এলাকায় নিজেদের বাড়ির বাথরুমে শিশুটির জন্ম দেয় সে। সেই সময় যুবতী আট মাসের গর্ভবতী। ওই আদালত তাকে জঘন্য ভাবে হত্যার অপরাধে কারাবাস দেয়। যদিও ইভলিনের দাবি, মৃত সন্তানের জন্ম দিয়েছিল সে।

সংগঠনের মুখপাত্র মরেনা হেরেরা বলেন, আদালত কোনো রকম প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়াই ইভলিনকে শাস্তি দিয়েছে। তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে কোনো রকম ফরেনসিক প্রমাণ ছাড়াই। আসলে বিচারকরা তাঁদের পূর্ব-সংস্কারের ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন।

এসিডিএটিইই-এর পক্ষ থেকে প্যাথলজিস্টের একটা রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে মায়ের গর্ভেই। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইভলিন জানতই না যে সে গর্ভবতী। সে প্রথমে পেটে ব্যথা অনুভব করে। তার পর বাথরুমে শিশুর জন্ম দিয়েছে। হেরেরা বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, এলা সালভাদরে যে কোনো পরিস্থিতিতেই গর্ভপাত আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এর আগে এক জন মহিলা শারীরিক অসুস্থতার কারণে গর্ভপাত করাতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাঁকে ৪০ বছরের কারাবাসের শাস্তি দেওয়া হয়। কেউ কেউ অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাতের কারণেও কারাবাস করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে এ দেশের গর্ভপাত আইন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এক মহিলার ভ্রূণে মাথা তৈরি হয়নি, তাও তাঁকে গর্ভপাত করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবর মাসে এল সালভাদরের আইনসভায় গর্ভপাত অপরাধমূলক নয়, এই মর্মে একটি বিল পেশ করা হয়। কিন্তু দেশের রক্ষণশীল দল সেই বিল পাশ হতে দেয়নি।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here