খাদ্যসংকটের মুখে নর্থ কোরিয়া, ধস নামছে জীবন-জীবিকায়, রিপোর্ট রাষ্ট্রপুঞ্জে

0

নয়াদিল্লি: নর্থ কোরিয়ার নাগরিকদের মানবাধিকারের উপর একটা নাটকীয় প্রভাব ফেলেছে কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ। সে দেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক স্বাধীন তদন্তকারীর দাবি, একাধিক কঠোর পদক্ষেপের কারণে সমূহসমস্যায় পড়েছেন নর্থ কোরিয়ার নাগরিকরা।

সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে টমাস ওজেয়া কুইন্টানা জানিয়েছেন, নর্থ কোরিয়ানরা খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ধস নেমেছে তাঁদের জীবিকায়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখোমুখি শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা। এই দুই অংশে অনাহারের ঝুঁকি প্রবল। এমনকী জেলগুলোতেও খাদ্যসংকটের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

কী কারণে এই সংকট?

ডেমোক্র্যাটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া (নর্থ কোরিয়ার সরকারি নাম) মহামারি প্রতিরোধে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক সীমানা। সংক্রামক এই রোগের বিস্তার রোধ করার জন্য সরকারের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের জেরে, সে দেশ থেকে যেমন কেউ বাইরে যেতে পারছেন না, তেমন অন্য দেশ থেকেও সেখানে প্রবেশ করা অসম্ভব।

সংবাদ সংস্থা এপি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, রাষ্ট্রপুঞ্জের তদন্তকারী আরও জানিয়েছেন, সীমানা সিল করে দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকারের উপর “একটি ধ্বংসাত্মক প্রভাব” ফেলবে। কারণ সে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ততটা উন্নত নয়। বিনিয়োগে টান এবং অন্তর্নিহিত মানবাধিকার সমস্যাগুলোর কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। যার জেরে একটি গুরুতর ঘাটতিতে ভুগছে নর্থ কোরিয়া।

রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ তদন্তকারী হিসেবে ছ’বছর নর্থ কোরিয়ায় রয়েছেন ওজেয়া কুইন্টানা। সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া নিজের চূড়ান্ত রিপোর্টে তিনি জানিয়েছেন, “চলাচলের স্বাধীনতার উপর ব্যাপক বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক সীমানা বন্ধ করার ফলে বাজারের স্বাভাবিক কাজকর্মও স্থগিত হয়ে গিয়েছে। যা মানুষের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলোতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। খাদ্য-সহ মৌলিক প্রয়োজনীয়তার চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে”।

সংকট কাটিয়ে উঠতে পদক্ষেপ

ও দিকে “ভয়াবহ” খাদ্য পরিস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বেসর্বা কিম জং উন। দেশে অনাহার রোধ করার প্রচেষ্টায় বিনিয়োগ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর মানবিক পরিষেবা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তদন্তকারী বলেন, বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের কোনো আন্তর্জাতিক কর্মী নেই এবং কূটনীতিকরা ধারাবাহিক ভাবে নর্থ কোরিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

রাষ্ট্রপুঞ্জের তদন্তকারী এ ব্যাপারে একগুচ্ছ সুপারিশ করেছেন সাধারণ পরিষদে। রিপোর্টে ওজেয়া কুইন্টানা বলেছেন, মহামারির প্রেক্ষিতে নর্থ কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। যদিও নর্থ কোরিয়াকে মানবিক সহায়তার নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরামর্শ, “রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আবারও ভেবে দেখা এবং মানবিক দিক বিবেচনায় কিংবা জীবন বাঁচাতে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা উচিত। যাতে দেশটির জনসাধারণের জন্য পর্যাপ্ত জীবনযাত্রার মান বজায় থাকার অধিকার সমুন্নত রাখা সম্ভব হয়”।

আরও পড়তে পারেন: 

২৩৩ দিনের মধ্যে সবচেয়ে কম সক্রিয় কোভিডরোগী ভারতে, কী কারণে মৃতের সংখ্যা ৬৬৬

ওবিসি কোটায় ব্যর্থ, কিন্তু সাধারণের থেকে বেশি নম্বর থাকায় নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

কোভিড মহামারির কারণে ২ বছর আয়ু কমে যাচ্ছে ভারতীয়দের! চাঞ্চল্যকর তথ্য গবেষণায়

এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে সংক্রমণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, কাঠগড়ায় পুজোর সময় কোভিডবিধি লঙ্ঘন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন