ওয়াশিংটন: বিদেশি নাগরিকদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদন করার সময় পেরিয়েছে বেশ কয়েক দিন আগেই। এ বার শুরু হল লটারি প্রক্রিয়া। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে ৮৫০০০ জনকে এই ভিসা দেওয়া হবে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে বিশ্বের নানা প্রান্তের কর্পোরেট চাকুরিজীবীরা, বিশেষত ভারতীয়রা। প্রতি বছর এইচ-ওয়ান বি ভিসার প্রায় ৭০ থেকে ৭৫% পায় ভারতীয়রাই। বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের কাছে চাকরি সূত্রে আমেরিকাবাস আজও বেশ লোভনীয় প্রস্তাব। তবে এ বারের ছবিটা কিন্তু অন্য রকম। আর তাতেই কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা।  

নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় থেকেই ট্রাম্প বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে একমাত্র মার্কিনদের মধ্যেই সীমিত রাখবেন চাকরি। সেই লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইতিমধ্যে এইচ-ওয়ানবি ভিসা-র সংশোধনী বিল পেশ হয়েছে মার্কিন সংসদে। ভিসাধারীদের ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৮৯ লক্ষ টাকা) করার প্রস্তাবও রয়েছে। ভিসা-র অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত করার ব্যাপারে একটি নির্দেশ জারি করার কথাও বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখনও সে নির্দেশ জারি হয়নি যদিও। তবে সোমবার মার্কিন আইন বিভাগ থেকে বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে লক্ষ করে বলা হয়েছে, তাদের নিয়োগ পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্রীয় আইনকে খণ্ডন করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে, ভিসার অপব্যবহার করে যেন মার্কিনদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করা হয়।

আরও পড়ুন; এইচ-ওয়ানবি ভিসাধারীদের বেতন দ্বিগুন করার প্রস্তাব, চাপে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা

এইচ-ওয়ানবি ভিসা পাওয়া যায় তিন বছরের জন্য, রিনিউ করা যায় মাত্র ১ বার। সস্তায় দক্ষ শ্রমিক (বলা ভালো সাইবার শ্রমিক) নিয়োগের এমন সহজ উপায় থাকায় কর্পোরেট সংস্থাগুলিও চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ভারতীয় অথবা ভারতীয় উপমহাদেশীয় নাগরিকরাই চাকরিতে বহাল থাক। সে ক্ষেত্রে বছরে ন্যূনতম ৬০০০০ ডলার বেতন দিতে হয় কর্মীদের। অথচ ওই একই কাজের জন্য মার্কিন নাগরিকদের দিতে হয় অনেক বেশি অর্থ। স্বভাবতই গত কয়েক বছর ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক সংস্থায় মার্কিন কর্মীর পরিবর্তে বিদেশি কর্মীর সংখ্যাই বেশি।এ বার এক লাফে বিদেশি কর্মীদের বেতন দ্বিগুণ বাড়াতে হলে নিয়োগকর্তারা চাইবেন, মার্কিনদেরই তাদের সংস্থায় নিয়োগ করতে। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারতীয়রা। 

এ বছরেও ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিস, উইপ্রো-র মতো সংস্থার ভারতীয় বিভাগ থেকে পাঠানো হয়েছে ১০ হাজার আবেদনপত্র। এই প্রসঙ্গে ‘ইমিগ্রেশন ভয়েজ’ সংস্থার প্রেসিডেন্ট আমন কাপুর বললেন, “এইচ-ওয়ানবি ভিসার ক্ষেত্রে ভারতীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ এটা নয়, যে তারা অনেক বেশি স্মার্ট। আসল কারণ হল ভারতীয়রা চাকরি করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এলে তারা অভিবাসী হিসেবে থাকে এবং তাদের ওপর নিয়োগকারী সংস্থার নিয়ন্ত্রণটাও অনেক বেশি জোরালো থাকে।” কিন্তু এ বার সেই নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকে, সেটাই প্রশ্ন।   

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here