লস অঞ্জেলস : ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৩৩ হাজার মানুষ বিভিন্ন ভাবে গুলি বিদ্ধ হয়ে মারা যান। তার মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই হল আত্মহত্যা। তা ছাড়াও রয়েছে এমন বেশ কিছু গুলি করে হত্যা করার ঘটনাও। যেমনটা ঘটেছে উত্তর ক্যানিফোর্নিয়ায়।

উত্তর ক্যানিফোর্নিয়া অঞ্চলে গুলিতে নিহত এক জন মহিলা-সহ চার জন। আহত ২ জন শিশু-সহ ১২ জন। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা। সানফ্রান্সিস্কো থেকে উত্তরে ৩ ঘণ্টার দুরত্বে রাঞ্চো তেহামা। হঠাৎ এক বন্দুকবাজ সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। বন্দুকবাজের পরণে ছিল সেনাদের মতো পোশাক। ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে পুলিশ জানায়, পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে সে নিহত হয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। পুলিশের সন্দেহ, অভ্যন্তরীণ বিরোধ সংক্রান্ত কোনো ব্যাপার হতে পারে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মতবিরোধ এমন কোনো ঘটনার সঙ্গেও এই ঘটনার যোগ থাকতে পারে।

এলাকার অ্যাসিস্ট্যান্ট শেরিফ ফিল জনস্টন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, গ্রামীণ এলাকায় গুলি চালিয়েছিল এই বন্দুকবাজ। এমনকি তেহামা প্রাইমারি স্কুলেও গুলি চালায় সে। এই দুষ্কৃতী সকলকে লক্ষ করেই যথেচ্ছভাবে গুলি চালাচ্ছিল। এটা ওই ব্যক্তির পূর্বপরিকল্পিতই ছিল।

দু’টি হাসপাতালে সব মিলিয়ে প্রায় ১২ জনের চিকিৎসা চলছে। শিশুদের মধ্যে এক জনের গুলি লেগেছে স্কুলে। আর এক জনের গুলি লেগেছে মায়ের সঙ্গে গাড়ি করে যাওয়ার সময়।

 

তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক ও দু’টি হ্যান্ডগ্রেনেড। স্কুলের পড়ুয়াদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুষ্কৃতীকে ধরতে পুলিশ গোটা এলাকায় ছড়িয়ে গিয়েছিল। প্রথমে বন্দুকবাজ এক জন বাসিন্দার গাড়ি চুরি করে। তার পর স্কুলে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

এফবিআইয়ের স্যাক্রামেন্টোর চিফ ডিভিশন কাউন্সিল জেসন ওয়ানডেল বলেন, তদন্তে সাহায্যের জন্য অতিরিক্ত লোক পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, নিহত ওই মহিলাকে প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিল দুষ্কৃতী। পরে গুলিবিদ্ধ হন।

এলাকার বাসিন্দা সালভাডোর তেলো বলেন, তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে সেই সময় স্কুলে যাচ্ছিলেন। দেখেন বন্দুকধারী এলোপাথাড়ি গুলি চালাচ্ছে। তাতে নিহত হন এক জন মহিলা। একটা গুলি এসে তার গাড়িতে লাগে। তিনি শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের নিচু হয়ে থাকতে বলেন। গাড়ি ঘুরিয়ে নেন। দেখেন মহিলার পাশে তাঁর স্বামী আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। তিনি সাহায্য চাইছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here