ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা করল কমিটি। এ দিন নোবেল কমিটি জানায়, ২০১৮ সালের শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ইরাকের কুর্দি মানবাধিকার কর্মী নাদিয়া মুরাদ এবং কঙ্গোর চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজি।

ইরাকের একটি ছোটো গ্রাম কোচোতে নিজের পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন নাদিয়া। গত ২০১৪ সালে ওই গ্রামে ঢুকে পড়ে ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএস। গ্রামের মানুষকে বন্দুকের নলের জোরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় একটি স্থানীয় স্কুলে। সেখানে মেয়েদের স্কুলের ঘরে বন্দি করা হয়। আর পুরুষদের সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি করে মারা হয়। আইএস-এর বর্বরতার শিকার হয়ে প্রাণ যায় নাদিয়ার ৬ ভাইয়ের।

কয়েক দিনের মধ্যেই বন্দি মহিলাদের নিয়ে যাওয়া হয় মসুল শহরে। অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গেই যৌনদাসী হিসাবে বিক্রি করে দেওয়া হয় নাদিয়াকেও। সেখানে প্রতিনিয়ত চলতে থাকে গণধর্ষণ। কিন্তু সেই অবর্ণনীয় যন্ত্রণা কাবু করতে পারেনি তাঁর অদম্য মানসিক শক্তিকে। এ ভাবে কিছু দিন ডলার পরেই আইএস-এর কড়া নজর এড়িয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি।

nadia murad

অসম সাহসিকতা আর ইচ্ছাশক্তির জোরে নাদিয়া এক দিন যোগ দেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বেচ্ছাসেবী দলে। সেখানে তাঁকে নিযুক্ত করা হয় রাষ্ট্রসঙ্ঘের শুভেচ্ছা দূত হিসাবে। মানবাধিকার আইনজীবী আমাল ক্লুনির সঙ্গে এক যোগে তিনি কাজ শুরু করেন আইএস-এর হাতে বন্দি ইয়েজিদি নারী ও পলাতকদের নিয়ে। তাঁর কাজের পরিধি বর্তমানে বহুধাবিস্তৃত। মানবপাচারের বিরুদ্ধে তিনি হয়ে উঠেছেন পরিচিত প্রতিবাদী মুখ।


আরও পড়ুন: ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন উপায় বাতলে নোবেল পেলেন দুই প্রবীণ বিজ্ঞানী


নাদিয়া বলেন, আইএস চেয়েছিল আমাদের সম্মান ছিনিয়ে নিতে। কিন্তু তাদের বরাতে এখন বিশ্বব্যাপী নিন্দা ছাড়া অন্য কিছুই অবশিষ্ট নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন