ওয়েবডেস্ক :  সমলিঙ্গ বিবাহের পর এ বার তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিল জার্মানির যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক আদালত। এই রায় দেওয়া হয়েছে এক জন তৃতীয় লিঙ্গের করা আবেদনের ভিত্তিতে। এই জাতীয় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি প্রথম দেশ। উল্লেখ্য, জার্মানিতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার।

এক্কেবারে জন্ম থেকেই নাম নথিভুক্ত করানোর নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত। তা ছাড়া বাকিদের খুঁজে বের করে নথিভুক্ত করা আর আইনি স্বীকৃতির কথা ঘোষণা করল এই আদালত। ২০১৮ সালের মধ্যেই এই বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আদালত। এতে করে জন্ম নথিভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে তৃতীয় লিঙ্গদের জন্য একটা নতুন বিভাগ রাখা হবে।

আদালত বলে, বর্তমান নাগরিক আইন তৃতীয় লিঙ্গের প্রতি বৈষম্য তৈরি করে। কিন্তু এটা হতে দেওয়া যায় না। তাই এক জন ব্যক্তির লিঙ্গগত পরিচয়ও মৌলিক অধিকারের মতোই আইন মেনে সংরক্ষিত হওয়া উচিত। রায়ে এ-ও বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বা রাজ্য কেউই কোনো ভাবেই এই বর্গের মানুষদের বাধ্য করতে পারবে না মহিলা বা পুরুষ হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার জন্য।

প্রসঙ্গত একাধিক নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে এই আবেদন করা হয়েছিল। আভিযোগকারীকে মহিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু ক্রোমজম পরীক্ষায় দেখা গেছে তিনি না পুরুষ না মহিলা। আর নিম্ন আদালতগুলি ‘ইন্টার’ বা ‘ভেরিয়াস’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে বিরোধিতা করেছিল।

বার্লিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র জোহানস ডিমোর্থ বলে, সরকার আইন মেনে চলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকার এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত।

বৈষম্য-বিরোধী সংস্থার মতে, তৃতীয় লিঙ্গের জন্য আদালতের এই রায় ঐতিহাসিক। আইনপ্রণেতারা বলছেন, মডার্ন জেন্ডার আইডেনটিটি বা আধুনিক লিঙ্গ পরিচয়ের আইন প্রণয়নের জন্য বর্তমান আইনের সামগ্রিক সংস্কার করা হবে।

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, এই আইনি সমর্থন দরকার ছিল। থার্ড অপশন নামের একটি দল টুইটারে বলেছে, দারুণ ব্যাপার। এই ব্যাপারে একটা ছোট্টো বিপ্লব এটা।

বর্তমানে কোনো শিশু এমন বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মালে তাদের জন্মের ফর্ম ভরার সময় লিঙ্গের জায়গাটা খালি রাখা হয়। তাদের অভিভাবকের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। নবজাতকের লিঙ্গ নির্দিষ্ট করার জন্য, অস্ত্রোপচার করানোর জন্য।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ০.০৫% থেকে ১.৭% মানুষ তৃতীয় লিঙ্গের। অ-ইউরোপীয় বহু দেশেই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আইনত স্বীকৃতি আছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here