তেহরান: বিশ্বব্যাপী কট্টরপন্থী নীতির বাড়বাড়ন্তের মধ্যে রুখে দাঁড়িয়েছিল ফ্রান্স। এ মাসের শুরুতে কট্টরপন্থী নেত্রীকে হারিয়ে মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট পায় সে দেশ। তার দিন দশেকের মধ্যেই মধ্যপন্থার পথে হাঁটল কট্টরপন্থী দেশ হিসেবে পরিচিত ইরানও। ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকটতম কট্টরপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য প্রেসিডেন্টের মসনদে বসলেন সংস্কারবাদী মধ্যপন্থী নেতা হাসান রাউহানি।

মোট চার কোটি দশ লক্ষ ভোটের মধ্যে রাউহানি পেয়েছেন ২ কোটি ৩০ লক্ষ ভোট, অর্থাৎ ৫৭ শতাংশ ভোট অন্য দিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তথা কট্টরপন্থী ইব্রাহিম রাইসি পেয়েছে ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ভোট অর্থাৎ ৩৮.৫ শতাংশ ভোট। নির্বাচনে জেতার জন্য রাউহানিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

ফল বেরোনোর অনেক আগে থেকেই অবশ্য বোঝা গিয়েছিল নির্বাচনের ফল রাউহানির দিকে যাচ্ছে। ভোট গণনা শুরু হওয়ার কিছু পর থেকেই রাইসির থেকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলেন রাউহানি। তাই আগে থেকেই রাউহানির ‘ভিক্টরি সাইন’ দেওয়া একটি ছবি নিজের ইস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন রাউহানির সমর্থক তথা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মোহম্মদ খাতামি, অন্য দিকে রাউহানির প্রধান অফিসার হামিদ আবৌতালেবি টুইট করে জানিয়েছেন প্রায় ষাট শতাংশ ভোট নিজের দখলে এনেছেন রাউহানি।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয় ইরান। ভোট শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল ৮টায়। শেষ হওয়ার কথা ছিল সন্ধে ৬টায়। কিন্তু ভোটদাতাদের ব্যাপক উৎসাহ দেখে সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তেহরান শহরে ভোট নেওয়া হয় রাত ১১টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানা গিয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। প্রসঙ্গত চার বছর আগেও এমনই বিপুল পরিমাণে ভোট দিয়েছিল ইরান। তাই গত বারের মতোই এ বারও জনশ্রুতি ছিল যে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোট দেওয়ার মানে রাউহানির প্রেসিডেন্টের পদে ফিরে আসা। কারণ মূলত উদার ইরান এবং নাগরিকদের মধ্যে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনে গিয়েছেন তিনি।

২০১৫ সালে বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি সই করার পর রাউহানি এই প্রথম নির্বাচনের মুখে পড়লেন। ইরানের ওপর জারি থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত করতেই রাউহানি পরমাণু চুক্তি সই করেন।

তবে রাইসিও নির্বাচনে জেতার জন্য অনেক খেটেছিলেন। গ্রামাঞ্চলে, গরিব এলাকায় গিয়ে প্রচারসভা করেছিলেন তিনি। দেশের শহরাঞ্চলের মানুষ রাউহানির উদারনীতির সমর্থক হলেও, গ্রামাঞ্চলে বেশ প্রভাব ফেলেছিলেন রাইসি। তবে তিনি যে নির্বাচনে জিততে পারবেন না সেটা আন্দাজ করে ভোট দিয়ে বেরিয়ে বলেছিলেন, “মানুষের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। মানুষ যা রায় দেবেন আমি তাই মাথা পেতে নেব।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here