এভারেস্টের আবহাওয়ায় কী ভাবে প্রভাব ফেলল ফণী?

0

ওয়েবডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ফণীর পরোক্ষ প্রভাব এসেছে নেপালে। আর তাতে তছনছ হয়ে গিয়েছে এভারেস্ট-সহ বিভিন্ন পর্বতের বেসক্যাম্প। বেশি প্রভাব অবশ্য এভারেস্ট বেসক্যাম্পেই পড়েছে। তীব্র হাওয়ার দাপটে উড়ে গিয়েছে কুড়িটা তাঁবু।

ঝোড়ো হাওয়ায় কোথাও টেন্টের পোল ভেঙেছে, কোথাও আবার তুষারধসে তলিয়ে গিয়েছে ফিক্সড রোপের একাংশ। এভারেস্ট বা অন্য সব পর্বত অভিযানে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের পুরোনো সব হিসেব বানচাল। হিমালয়ে আট হাজারী শৃঙ্গ অভিযানে যাওয়া বাঙালি পর্বতারোহীরা সেখানে বসে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন ঘূর্ণিঝড় ফণীর দাপট।

কিন্তু অনেকেই ভাবতে পারেন, ফণীর গতিপথে কোনো ভাবেই নেপাল ছিল না, তা হলে তার প্রভাব সেখানে পড়ল কী করে?

আরও পড়ুন জলবায়ু পরিবর্তনের জের, ৫০ বছরেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

এই ব্যাপারটির ব্যাখ্যা করেছেন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। তাঁর কথায়, ফণী যখন ওড়িশা দিয়ে ঢুকে স্থলভাগ দিয়ে বাংলার দিকে এগোচ্ছে, তখনই সেখান থেকে জলীয় বাষ্প ভরা বাতাস সোজা আঘাত হানে নেপাল হিমালয়ে। রবীন্দ্রবাবুর কথায়, “জলীয় বাষ্প ভরা বাতাস নেপালের ওপর দিয়ে যেতে গিয়ে বিশাল পাহাড়শ্রেণিতে ধাক্কা খায়। সেখানে জলীয় বাষ্পের চাপ ধরে রাখতে না পেরে ভেঙে পড়ে এভারেস্ট সংলগ্ন এলাকায়।” এর ফলে তীব্র হাওয়া এবং তুষারপাত হয়েছে এই অঞ্চলে।

তবে এটা নতুন নয়। এর আগেও একই কারণে একই ঘটনা ঘটেছিল এবং সেটা ছিল আরও বেশি মারাত্মক। ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে তাণ্ডব চালিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় হুডহুড। তার প্রভাবেই ঠিক একই কারণে প্রবল তুষারধস হয় নেপালে। সেই দুর্যোগ এতটাই প্রবল ছিল, তার প্রভাবে বিভিন্ন দেশের ২১ জন পর্বতারোহী-সহ ৪৩ জনের মৃত্যু হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here