nepal communist party

ওয়েবডেস্ক: নেপালে ক্ষমতা দখল করেছে কমিউনিস্ট জোট। সংসদীয় নির্বাচনে দেশের ১৬৫টা আসনের মধ্যে ১১৬টিই দখল করেছে তারা। অন্য দিকে ধুলিস্যাৎ হয়েছে নেপালি কংগ্রেস। নেপালের এই নির্বাচনের ফলে বিশ্ব জুড়ে কমিউনিস্টদের উত্থানের যেমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, ঠিক তেমনই ভারতের দুশ্চিন্তা বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনের প্রচারের সময়ে দেশে ভারতের ‘প্রভাব’ কমানোর ডাক দিয়েছিল কমিউনিস্ট জোট। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যিনি শপথ নিতে চলেছেন সেই খড়গা প্রসাদ ওলি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, চিনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চান তাঁরা। অন্য দিকে ভারতের মিত্র হিসেবে পরিচিত নেপালি কংগ্রেস এ বার দু’ডজন আসনও জিততে পারেনি।

যদিও নেপালের নতুন সরকারের ব্যাপারে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবিশ কুমার বলেছেন, “নেপালের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি। দু’টি দেশের  সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।” অন্য দিকে নির্বাচন জিতে ওঠার পরে কমিউনিস্ট জোটের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের নীতি ভারত-বিরোধী যেমন হবে না, তেমনই চিনের পক্ষেও হবে না।

২০১৫-এর আগে পর্যন্ত অবশ্য নেপাল-ভারত সম্পর্কে কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যাটা তৈরি হয় মদেশীয় আন্দোলনের সময়ে। ২০১৫-তে নতুন সংবিধান পায় নেপাল, তার পরেই শুরু হয় সমস্যা। নতুন সংবিধানে তাদের  কথা ভাবা হয়নি, এই দাবিতে নেপালে আন্দোলন শুরু করে মদেশীয়রা। বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মদেশীয়দের। মদেশীয়দের পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় ভারত।

কাঠমান্ডু মনে করে ভারতের নীতিগত সমর্থনে মদেশীয়দের আন্দোলন ক্রমশ বড়ো আকার ধারণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় এই আন্দোলনের ফলে নেপালে ভারত থেকে যাওয়া ট্রাক ঢুকতে পারছিল না। তৎকালীন ওলি সরকারের দাবি ছিল ভারতের ইন্ধনেই অবরোধ চলছে সীমান্তে এবং দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ঢুকতে পারছে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেপালে ভারত-বিরোধী জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয় তৎকালীন বাম সরকার।

এই সমস্যার কিছু দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন ওলি। তখন ওলির নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে জোট ছিল প্রচণ্ডের মাওবাদীদের। ওলির ওপর থেকে প্রচণ্ড সমর্থন প্রত্যাহার করেন। ইস্তফা দেওয়ার পরে ওলির অভিযোগ ছিল ‘রিমোট কন্ট্রোলে’ চালিত হচ্ছেন প্রচণ্ড। ইঙ্গিতটা যে কার দিকে সেটা বুঝতে বিশেষ অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

এর পরে গত বছর সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট তৈরি করে সরকার গড়েন প্রচণ্ড। তবে এই সরকারের আয়ু বেশি দিন ছিল না। আবার ওলির দলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন প্রচণ্ড। সেই জোটই এ বার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা দখল করেছে। এই জোট বারবার বার্তা দিয়েছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের পর্যালোচনা করা এবং চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোই হবে মূল নীতি।

এ দিকে নেপালে এখন থেকেই ভালো রকম প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে চিন। নেপালে হাসপাতাল, রাস্তা এবং শপিং মল তৈরি করছেন চিনের বিনিয়োগকারীরা। দু’দেশের মধ্যে যৌথ রেল পরিষেবা শুরু করা যায় কি না সেই চিন্তাভাবনাও চলছে। এত দিন পর্যন্ত নেপালে তৈলসামগ্রী পাঠাত ভারতই। তৈলসামগ্রী যাতে চিনও পাঠাতে পারে, সে ব্যাপারেও ভাবনাচিন্তা চলছে দুই দেশের। গত আগস্টে নেপাল ভ্রমণ করে নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি এবং মাওবাদীদের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন চিনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওয়াং ইয়াং।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেপাল থেকেই বিদেশ সফর শুরু করেছিলেন মোদী। পুজো দিয়েছিলেন পশুপতিনাথ মন্দিরে। পশুপতির ভূমি এখন মোদীর কতটা পাশে থাকে সেটাই দেখার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here