মঁ ব্লাঁ (ফ্রান্স): নেশা কত রকমের হয়! পাহাড়ে-পাহাড়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ খোঁজা ড্যানিয়েল রশের নেশা। সেই নেশার তাড়নাতেই ফ্রেঞ্চ আল্পসের মঁ ব্লাঁয় সন্ধান চালাচ্ছিলেন তিনি। এই নেশার টানেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষ। এমনটাই দাবি ড্যানিয়েলের।

বিমানের ধ্বংসাবশেষের পাশাপাশি কয়েকটি দেহাবশেষও উদ্ধার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এগুলো ওই বিমানের যাত্রীদেরই। প্রসঙ্গত ষোলো বছরের ব্যবধানে ফ্রেঞ্চ আল্পসের মঁ ব্লায় দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। এর মধ্যে সব থেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ছিল ১৯৬৬-এর জানুয়ারিতে। বোম্বে থেকে নিউ ইয়র্কগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭০৭ বিমানটি ভেঙে পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১৭ জন। এর আগে ১৯৫০ সালে আরও একটি বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৪৮ জনের।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধান চালানোর সময় তাঁর চোখে পড়ে একটি কাটা হাত এবং পায়ের উপরের অংশের দিকে। সংবাদসংস্থা এএফপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এর আগে কখনও কোনো দেহাবশেষের খোঁজ পাননি তিনি। তাঁর দাবি, যাঁর দেহাবশেষ মিলেছে তিনি মহিলা ছিলেন। দেহাবশেষের পাশাপাশি ওই বিমানটির চারটে ইঞ্জিনের মধ্যে একটিকেও উদ্ধার করেছেন তিনি।

একটুও দেরি না করে চামোনিক্স উপত্যকার জরুরি পরিষেবায় ফোন করে বিষয়টি জানান ড্যানিয়েল। তারা সেই দেহাবশেষ হেলিকপ্টারে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। স্টিফেন বোজন নামে স্থানীয় এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন,”প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে এই দেহাবশেষ একই ব্যক্তির নয়।” কোনো বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এই মানুষগুলো, সেটাও এখনই জানানো কঠিন বলে মনে করেন বোজন।

দিন দশেক আগে সুইস আল্পসের ডায়াবলার্তিস ম্যাসিফে এক দম্পতির দেহ খুঁজে পাওয়া যায়। হিমবাহের কিছু অং‌শ গলে যাওয়াতেই ওই দেহ দুটো বেরিয়ে আসে। ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা যায়, দেহ দু’টি হল বছর চল্লিশের মার্সেলিন ডুমোলিন এবং তাঁর স্ত্রী ফ্র্যান্সিনের। যাঁরা ৭৫ বছর আগে আল্পসে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন