pervez mussaraff

ওয়েবডেস্ক: কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাকে ‘টার্গেট’ করে লস্কর, তাই তিনি তাদের সব থেকে বড়ো সমর্থক। সাফ জানিয়ে দিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পরভেজ মুশারফ। এর পাশাপাশি তাঁর চাঞ্চল্যকর উক্তি, জামাত-উদ-দাওয়া প্রধান হাফিজ সঈদকেও তাঁর ভালো লাগে।

বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছেন মুশারফ। তাঁর ওপর ঝুলে রয়েছে দেশদ্রোহিতার মামলাও। মঙ্গলবার রাতে একটি টিভি শোয়ে এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন প্রাক্তন পাক প্রেসিডেন্ট।

যে নেতা এককালে আধুনিকতার পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেই মুশারাফ এখন কেন মৌলবাদীদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন, এই ব্যাপারে মুশারফকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, “আমি লস্কর-এ-তৈবার খুব বড়ো সমর্থক। লস্কর এবং জামাতের অনেক নেতাকর্মীও আমাকে পছন্দ করেন।”

তিনি বলে যান, “আমি কিছুদিন আগেই হাফিজ সঈদের সঙ্গে দেখা করেছি। আমার সবসময় মনে হয় কাশ্মীরে ভারতীয় সেনার ওপরে চাপ সৃষ্টি করার জন্য কিছু করা দরকার। লস্করই একমাত্র সংগঠন, যারা সেই কাজটা করতে পারে।” পাশাপাশি মুশারফ আরও বলেন যে মুম্বইয়ের ২৬/১১-এর হামলার পেছনে লস্করের কোনো ভুমিকাই নেই।

‘আধুনিকতা এবং প্রগতিশীল পন্থা’ থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর নিজের দল ‘অল পাকিস্তান মুসলিম লিগ’ এখন মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুশারাফ বলেন, “এখন পাকিস্তানের এটাই দরকার। দেশের ভালোর জন্য যা করা উচিত আমি সেটাই করব।” তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত ভাবে আমি প্রগতিশীল এবং মধ্যপন্থী। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর বিরোধিতা করব আমি।”

উল্লেখ্য, নিজে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ২০০২ সালে লস্কর এবং জঈশ-এ-মোহম্মদকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুশারাফ। তার কয়েক মাস আগেই দিল্লিতে ঘটে গিয়েছে সংসদে হামলার ঘটনা। এখন কেন তাঁর মুখে অন্য কথা? এই প্রশ্নের জবাবে মুশারাফ বলেন, “২০০২-এ পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। আমার মনে হয়েছিল কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে আমি যে’ চার-পয়েন্ট এজেন্ডা’র কথা বলেছিলাম, ভারত সে দিকেই হাঁটছে। কিন্তু ভারত এখন সেই দিক থেকে সরে এসেছে।”

হাফিজ সঈদকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ দেওয়ার কোনো এক্তিয়ার নেই বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি পাকিস্তানের মসনদে বসলে সাফ বলতাম, আমাদের দায়িত্ব আমরা ভালো করেই জানি। লস্করের প্রধানকে নিয়ে কী করা উচিত সেটা আমরাই ঠিক করব, আপনাদের মাথা গলাতে হবে না।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here