নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)-কে গ্রেফতার করতে পারে সে দেশের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থা। শনিবার মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, অবৈধ আর্থিক লেনদেন মামলায় তলব এড়ানো এবং নোটিশের জবাব না দেওয়ার কারণেই গ্রেফতার হতে পারেন তিনি।

পাকিস্তানের দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (FIA) শুক্রবার এ বিষয়ে ইমরানকে দ্বিতীয় নোটিশ পাঠায়। গত বুধবার তাঁকে প্রথম নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি এফআইএ আধিকারিকদের সামনে হাজিরা দেননি। এফআইএ-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, তিনটি নোটিশ জারির পর ইমরান খানকে গ্রেফতারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

চূড়ান্ত নোটিশ আগামী সপ্তাহেই!

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দলের সঙ্গে সম্পর্কিত পাঁচটি সংস্থার সন্ধান পেয়েছে এফআইএ। যেগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রিটেন এবং বেলজিয়ামে কাজ করে। কিন্তু পাক নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় সেগুলির উল্লেখ করা হয়নি।

অন্য দিকে, তাঁকে পাঠানো এফআইএ-র সমন নোটিশ দু’দিনের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইমরান। নচেত আইন পদক্ষেপ করবেন তিনি। শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থাকে লিখিত জবাবে তিনি জানিয়েছেন, উত্তর দিতে দায়বদ্ধ নই। তথ্য জমা দেওয়ার দায়ও নেই আমার। যদি দু’দিনের মধ্যে নোটিশ প্রত্যাহার না করা হয়, আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তৃতীয় এবং চূড়ান্ত নোটিশটি সম্ভবত আগামী সপ্তাহে জারি করা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন থেকে ইমরানের বিরুদ্ধে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে এফআইএ। সে সবের উপর ভিত্তি করেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করার তোড়জোড় চলছে।

ইমরানের সঙ্গে টানাপোড়েন নির্বাচন কমিশনের

চলতি মাসের শুরুর দিকেই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করে পাক নির্বাচন কমিশন (ECP)। কমিশন বলেছে, ৩৪ জন বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে নিয়মবিরুদ্ধ ভাবে তহবিল সংগ্রহ করেছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)। দাতাদের তালিকায় রয়েছেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীও।

সে সময় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয় ইমরানকে। নিয়ম না মেনে তহবিল সংগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয় দলীয় প্রধানকে। কমিশনের প্রশ্ন, ওই তহবিল কেন বাজেয়াপ্ত করা উচিত নয়, সেটাই জানাক পিটিআই। কমিশন আরও বলে, পাকিস্তানি আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক নিময় মানতে ব্যর্থ হয়েছেন ইমরান।

তার পর থেকেই ইমরানের দলের সঙ্গে কমিশনের টানাপোড়েন অব্যাহত। পাল্টা হিসেবে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকন্দর সুলতান রাজার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ইমরান। তিনি বলেন, পিটিআই-এর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব করছেন নির্বাচন কমিশনার।

সরকারি সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে তদন্ত

এই প্রথম নয়, গত এপ্রিলে আরেকটি মামলায় সদ্য-প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল এফআইএ। উপহার হিসেবে পাওয়া একটি নেকলেস নিয়ে সেই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই নেকলেসটি ছিল সরকারি উপহার ভাণ্ডারের আওতাধীন। কিন্তু সেটাকে বিক্রি করে দেওয়া হয় এক জুয়েলার্সের কাছে। ১৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয় ওই নেকলেস।

পাকিস্তানের রীতি অনুযায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী যদি এ ধরনের কোনো উপহার পেয়ে থাকেন, তা হলে সেটা সরকারি উপহার ভাণ্ডারে জমা দিতে হয়। তবে বিকল্প হিসেবে, সরকারি উপহারের কমপক্ষে অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করে তা নিজের কাছে রাখা যেতে পারে। কিন্তু ১৮ কোটি মূল্যের নেকলেসের জন্য জাতীয় কোষাগারে মাত্র কয়েক লক্ষ টাকা জমা দেন ইমরান। যা বেআইনি কাজ হিসেবেই চিহ্নিত হয়।

আরও পড়তে পারেন:

ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না, সরকারি অফিস এখন ব্যাপক দুর্নীতির আখড়া, মন্তব্য কর্নাটক হাইকোর্টের

মিলল না জামিন! আরও কত দিন সিবিআই হেফাজতে অনুব্রত মণ্ডল

আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই গ্রেফতার হবেন মণীশ সিসোদিয়া! কী কারণে, সেটাই জানালেন দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী

বাংলার ফুটবলের আর-এক কিংবদন্তি বদ্রু ব্যানার্জি প্রয়াত, শোকস্তব্ধ ফুটবলমহল

শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখার অনুরোধ ভারতকে, মন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড় বাংলাদেশ

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন